Gmail! | Yahoo! | Facbook

কবি ফররুখের বসতবাড়ি অক্ষত রেখে রেললাইন স্থাপনের দাবি

FacebookTwitterGoogle+Share

‘মানবতাবাদী কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটা আক্রান্ত : ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয়’ ও তার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভা

farrukhঢাকা, ১৩ জুন ২০২১: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না। তাই সমাজে তথা রাষ্ট্রে যেসব গুণী ব্যক্তি বাস করেন তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া আমাদের কর্তব্য। সভ্য দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন তারা গুণীদের সম্মান দিতে ভুল করে না। তিনি ব্যথিত চিত্তে বলেন, আজ কবি ফররুখ আহমদকে নিয়ে আপনারা অনেক আলোচনা করেছেন। তার মতো কবি এ দেশে জন্ম নিয়ে আমাদের গর্বিত করেছে। তিনি ফররুখ আহমদের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি অক্ষুন্ন রেখে রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, এ গুণীকে অসম্মান না করাই হবে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গৌরবের।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘মানবতাবাদী কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটা আক্রান্ত : ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয়’ ও তার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
জাতীয় স্মরণ মঞ্চের সভাপতি প্রকৌশলী আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক কবি অধ্যাপক আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, বাচিক শিল্পী অ্যাডভোকেট নাসিম আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা, ডিইউজের সাবেক সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, কবি ফররুখ আহমদের পুত্র মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ইউরোপকে এক সময় অন্ধকার যুগ বলা হতো। ইউরোপের সেই অন্ধকার যুগ কেটে গেছে। কাজী নজরুল ইসলাম ও কবি ফররুখ আহমদ মানবতার কবি। মানবতার জাগরণের কবি। ফররুখ আহমদ এ দেশের মানুষের জাগরণের কথা তার কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি কবি ফররুখ আহমদও বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। সরকারের উচিত তাকে সম্মান দেয়া এবং তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি যাতে রেললাইন থেকে রক্ষিত থাকে সেই দাবি সরকারের নিকট ব্যক্ত করেন।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আজকে সবকিছুই রাজনীতিকীকরণ করা হচ্ছে। যে রাজনীতির ক্ষেত্রে শুধু একজনের নাম একাকার হয়ে গেছে। সেখানে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী ও জেনারেল ওসমানী নেই। নিজেদের ঘরের মধ্যে অস্বীকার করে, তাহলে অন্যরা কেন স্বীকার করবে?’ তিনি বলেন, এই দেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি আছেন, যিনি শিক্ষকতা ছেড়ে যুবলীগের সভাপতি হতে চান। আমরা এ ধরনের ভিসি দেখেছি, যিনি বিদায়ের আগে রাত ৩টা ৩০ মিনিটে ক্লাস নেন। আমরা এমন ভিসিও দেখেছি, যার সাথে টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগের তুমুল ঝগড়া হয়, সে অডিও ফাঁস হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় নাই। এই হলো আমাদের শিক্ষার সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসংস্কৃতি। যুবদলের সাবেক এই সভাপতি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে এবং অধিকার আদায়ে উদ্বুুদ্ধ করা এ দুটো আলাদা জিনিস। এটা বর্তমান সরকারকে কারা বোঝাবে? সেই বোঝানোর জন্য যে লেখনীর প্রয়োজন ছিল, যে লেখকের প্রয়োজন ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবি ফরুক আহমদ।’
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ব্রিটিশ-বেনিয়ারা এ দেশ থেকে তাদের লোলুপতা ও অপশাসন তুলে লেজ গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর ভারত বিভক্ত হলে পাক শাসকেরা রাষ্ট্রীয় ভাষা নিয়ে জোচ্চুরি করতে আরম্ভ করে। সে সময় বাংলা ভাষার পক্ষে কবি ফররুখ আহমদ তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জনমত সষ্টি করেন। ‘উর্দু বনাম বাংলা’ নামক ব্যঙ্গকবিতায় ১৯৪৫ সালেই তিনি তীব্র বিদ্রƒপ হেনে লিখেছিলেন, ‘দুই শো পঁচিশ মুদ্রা যে অবধি হয়েছে বেতন/বাংলাকে তালাক দিয়া উর্দুকেই করিয়াছি নিকা।’ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই প্রকাশিত তার ‘পকিস্তান : রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্যে’ তিনি দ্বিধাহীন জানিয়েছিলেন : ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ নিয়ে যথেষ্ট বাদানুবাদ চলছে। আর সবচেয়ে আশার কথা এই যে, আলোচনা হয়েছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, জনগণ ও ছাত্রসমাজ অকুণ্ঠভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছে। সুতরাং এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।’ তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার ও পাকিস্তানের অপরিণামদর্শী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কঠোর হাতে লেখনী পরিচালনা করেন। এভাবে যখন চলে আসে উত্তাল কাল ১৯৭১ সাল। তখন মাতৃভূমি বাংলাদেশে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। হাতে বন্দুক নিয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ না করলেও তিনি স্বাধীনতার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। অথচ দেশপ্রেমিক এ বিপ্লবী কবির বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন থাকার পরেও এখন তাকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। উল্টো তার বিরুদ্ধে নানা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। নয়া দিগন্ত

মন্তব্য