Gmail! | Yahoo! | Facbook

শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি বলা নির্জলা মিথ্যাচার: হেফাজত মহাসচিব বাবুনগরী

FacebookTwitterGoogle+Share

hefajotঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০১৮ঃ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গত রোববার কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শোকরানা মাহফিল’-এ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা’ এই বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার, নির্লজ্জতা ও সীমাহীন ঔদ্ধত্বপূর্ণ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী আরো বলেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ মর্মে প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও তাওহিদী জনতা চরমভাবে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত।
তিনি বলেন, অনস্বীকার্য বাস্তবতা হলো, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ৫ মে সন্ধ্যায় ও দিবাগত রাতে তৎকালীন সরকারের প্রশাসন কর্তৃক শাপলা চত্বরে মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী সা:-এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থানরত শান্তিপ্রিয় আলেমসমাজ ও তাওহিদী জনতার ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। যাতে অনেক মুসলমান শাহাদত বরণ করেন এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক জনতা আহত হন, পঙ্গ্ত্বু বরণ করেছেন।
আমি স্বয়ং সেই রাতে ব্যাপক নিগ্রহের শিকার হই এবং পরদিন সকালে আমিসহ অনেকেই গ্রেফতার হই। পরে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরো অনেক আলেম, মাদরাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। ওই দিন শাপলা চত্বরে অবস্থানরত লাখ লাখ তাওহিদী জনতা, দেশী-বিদেশী মিডিয়াকর্মী ও ঢাকাবাসী এ হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। শুধু তা-ই নয়, সন্ধ্যার আগ থেকেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্র সদস্যদের বর্বরোচিত আক্রমণে অবরোধকারী তাওহিদী জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর খোলামেলা প্রকাশিত হয়।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সাথে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যেখানে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, সেখানে সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ও দম্ভোক্তির শামিল। আমরা এ মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানাই।
তিনি আরো বলেন, সোহরাওয়ার্দীতে উপস্থিত লাখ লাখ ইলমে নববীর ধারক বাহক, দেওবন্দিয়ত ও হক্কানিয়তের নিশানবরদার উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দ্বীন ও দ্বীনের রাহবরদের সামনে এত বড় ডাহা মিথ্যা বক্তব্য কী করে সহ্য করলেন, তা ভেবে পাচ্ছি না। এত বড় মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কারো অন্তরে ঈমানী তরঙ্গ ফুঁসে উঠল না, এটাই তাজ্জবের বিষয়। তাহলে এটা কি কওমি সনদের স্বীকৃতির বিনিময়ে শোকরানা সভার মোড়কে শাপলার হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের আয়োজন? সবার মনে রাখা প্রয়োজন, ৫ মে শাপলার শাহীদানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা কেউ আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাবো না।

মন্তব্য