Gmail! | Yahoo! | Facbook

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম আর নেই

FacebookTwitterGoogle+Share

torikulঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০১৮ঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা রোববার বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দুই ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত ও বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। বিএনপি চেয়ারপারসেনের প্রেস উইংয়য়ের সদস্য শায়রুল কবির খান মানবজমিনকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১৩ই অক্টোবর তরিকুল ইসলামকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে পুরাতন ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। শরীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ দিন থেকে তরিকুল ইসলাম ফুসফুসের ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটি, শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেন। তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না শোক প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চার বার বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক এই ব্যক্তিত্ব যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক লোকসমাজ’ পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন। ১৯৪৬ সালের ১৬ই নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন তরিকুল ইসলাম। পিতা মৃত আলহাজ্জ্ব আবদুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মৃত মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

তরিকুল ইসলাম যশোর সরকারি সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের উপাধ্যাক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় বাল্যশিক্ষা শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। একটানা আট বৎসর শিক্ষাগ্রহণের পর ১৯৬১ সালে তিনি ওই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই এ এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি এ (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের নিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন। ওই সময় তিনি গ্রেপ্তারও হন। কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সূত্রে দীক্ষা বাম রাজনীতিতে। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ করেন দীর্ঘ ৯ মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তরিকুল। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) হয়ে পরে বিএনপিতে যোগ দেন বরেণ্য এ রাজনীতিক। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পান। তরিকুল ইসলাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য।

মন্তব্য