Gmail! | Yahoo! | Facbook

সরকারকে জনগণের দাবী মানাতে বাধ্য করতে হবে: মাওলানা ইসহাক

FacebookTwitterGoogle+Share

জাতীয় প্রেসক্লাবে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে হবে: নজরুল ইসলাম খান

km dcdcঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৮: খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার সহজে জনগণের দাবী মানবে না। সরকারকে জনগণের দাবী মানাতে বাধ্য করতে হবে। সে জন্যে সবাইকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে সরকার সংসদ নির্বাচন তো দূরের কথা একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পর্যন্ত কারচুপি করে সেই সরকারের অধিনে কিভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? পৌরসভা নির্বাচন, সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনেই কারচুপি করে। জনগণকে ভোট দিতে দেয়না। কিছুতেই এ সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা দাবী করেছি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের চাপের মুখে যে নির্বাচন কমিশন সোজা হয়ে দাড়িয়ে থাকতে পারে না সেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের দাবী হচ্ছে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। এই ইভিএম বহু দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো লুট করা হচ্ছে। কিছু কিছু ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। এভাবে সরাদেমে লুটপাট চলছে। একটি রিপার্ট অনুযায়ী গত ৯ বছরে ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যে দেশে প্রধান বিচারপতিকে জোর করে পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয় সে দেশে অন্য কোন নাগরিকের ন্যায় বিচার পাওয়ার নূন্যতম সম্ভাবনা নেই। আজ নির্বাচনের আগে একের পর এক সাজানো মামলার রায় দেয়া হচ্ছে। একজন বিচারকের ইউটিউবে বক্তব্য থেকে জানা যায়, আসলে রায় তৈরি হয় আইন মন্ত্রনালয়ে বা অন্য কোথায়ও তা শুধু পড়ে শুনান হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবর একটি রায় দেয়া হবে। সেই রায় কি হবে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। দেশের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জনগণকে সাথে নিয়ে অধিকার আদায়ের লড়াই করার যোগ্য নেতৃত্ব ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আজ তিনি বন্দী। তার নেতৃত্বেই আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাবেশের প্রধান বক্তা ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মামলা, গ্রেফতার, জুলুম নির্যাতন চলছেই। জনবিচ্ছিন্ন সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেঁড়ে নিচ্ছে। দেশ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধমে ক্ষমতার পরিববর্তন। কিন্তু বর্তমান সরকারের অধিনে কোনভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের জন্যে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। বর্তমান মাজাভাঙ্গা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। সকল মিথ্যা ও গায়েবী মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করতে হবে। নির্বাচনের জন্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীতে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।
আজ ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ২:০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীর সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজীজুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নরজরুল ইসলাম খান। প্রধান বক্তা ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। অতিথি হিসবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, ডাঃ এস এম মোসাদ্দেক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ, শ্রমিক মজলিস সভাপতি আলহাজ্ব নূর হোসেন, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার প্রমুখ।
সম্মেলনে হামদ-নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে দাবানল শিল্পী গোষ্ঠির শিল্পীবৃন্দ।

মন্তব্য