Gmail! | Yahoo! | Facbook

ডিবির হাতে আটকের পর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৫ সন্তানের সন্ধান দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

FacebookTwitterGoogle+Share

IMG-20180915-WA0045ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ঃ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার চার দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ পাঁচ ব্যক্তির। কোথাও সন্ধান মিলছে না এমন অভিযোগে করেছেন তাদের পরিবার। ঢাকার প্রতিটি থানায়, ডিবি অফিসে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কেউই নিখোঁজদের বিষয়ে কোন তথ্য দিতে পারছেন না।
শনিবার রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা।
নিখোঁজরা হলেন, ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাফিউল আলম, হাইটেক বাংলার কর্মকর্তা মনিরুল আলম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মো আবুল হায়াত, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ ও ডগাইর ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসাইন মায়াজ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিখোঁজ শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম। লিখিত বক্তব্য তারা বলেন, ১২ই সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রথমে আমার দুই সন্তান  ও তার বন্ধু মো আবুল হায়াতকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। ওইদিন পবিত্র হজ্জ পালন শেষে ঢাকায় পৌছে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য আমরা মাইক্রোবাসে উঠি। ঠিক তখনই একদল সাদা পোষাকের লোক অনেক মানুষের সামনে থেকে টানা হেছড়া শুরু করে। তখন আমি চিৎকার শুরু করি।

তা শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডিবির পরিচয়ের লোকজন তাদের পরিচয় পত্র ও অস্ত্র দেখিয়ে তাদেরকে নিয়ে যায়, এসময় তাদের অপরাধ জানতে চাইলে তারা কিছুই বলে নাই।  সংবাদ সম্মেলনে  নিখোঁজ ৫ জনের স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য নিম্নরূপঃ

‘ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৫ সন্তানের সন্ধান চাই’

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ।
আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি অন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মহান দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অধিকার হারা পুরো জাতি আজ গণমাধ্যমকর্মী তথা জাতির জাগ্রত বিবেক হিসাবে আপনাদের দিকে চেয়ে আছে। আজ আপনাদের মাধ্যমে সন্তানের খোঁজ না পাওয়া অসহায় ৫ মায়ের আকুতি। আপনাদের সহযোগীতায় যেন আমাদের সন্তানদের আমাদের বুকে ফিরে পাই, তাদের সন্ধান জানতে পারি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে সাদা পোশাকধারী (ডিবি) পুলিশ গত ১২/০৯/২০১৮ তারিখ রোজ বুধবার দিবাগত রাতে আমাদের ৫ সন্তান শাফিউল আলম, মনিরুল আলম, আবুল হায়াত, সফিউল্লাহ ও মোশারফ হোসাইন মায়াজকে তুলে নিয়ে গেছে।
আমি রমিছা খানম, শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা। ওইদিন পবিত্র হজ্জ পালন শেষে ঢাকায় পৌঁছে (১২/০৯/২০১৮ ) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা সময় হযরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সন্তানদের নিয়ে মাইক্রোতে উঠি। হঠাৎ একদল অপরিচিত লোক আমার দুই ছেলেকে বহু মানুষের সামনে গাড়ী থেকে নামাতে টানা হেঁচড়া শুরু করে। তাৎক্ষণিক আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ওরা পরিচয়পত্র ও অস্ত্র দেখিয়ে নিজেদের সাদা পোশাকদারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী (ডিবি) দাবী করে। চোখের সামনে থেকে আমার সাথে থাকা দুই ছেলে শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা আমার ছোট ছেলের বন্ধু আবুল হায়াতকেও তুলে নিয়ে যায়। পরে সে রাতেই আমার ছেলে শাফিউলকে নিয়ে গভীর রাতে তাঁর যাত্রাবাড়ি মীর হাজীরবাগস্থ বাসায় যায় তারা। এসময় বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা শাফিউলের অপর দুই রুমমেট সফিউল্লাহ ও মোশারফ হোসাইন মা’য়াজকেও তুলে নিয়ে যায়। যার মধ্যে মোশারফ হোসাইন মা’য়াজ নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
গত তিনদিন রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করলেও প্রশাসনের কেউ এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করছেন না। যাত্রাবাড়ি থানায় এ ব্যাপারে জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নিতে অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমি একজন মা! গত চারদিনে আমার দুই সন্তানের খোঁজ না পেয়ে আমার চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। আমার পাশে বসে থাকা মায়েরও একই অবস্থা। সন্তানকে না পেয়ে এই মায়েরাও বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। সন্তানদের খুঁজছেন। ইতিমধ্যে দুজন মা তাদের সন্তানদের শোকে অসুস্থ হয়ে পরেছেন। দয়া করে আমাদের সন্তানদের সন্ধান দিন। দেশের আইনে তারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাদের জন্য আইন আছে। তাদেরকে আদালতে হাজির করে আইনের আওতায় আনুন।

প্রিয় সাংবাদিকরা,
আপনারাও কোন না কোন মা-বাবার সন্তান; কিংবা পিতা-মাতা। আপনারাও সন্তান হারানোর ব্যথা একজন মা কিংবা বাবা হিসেবে অনুধাবন করতে পারেন। আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে বলছি, আমাদের চোখের সামনে থেকে সন্তানদের তুলে নেয়ার ৪ দিন পরেও এখনো সন্ধান না দেয়ায় আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। আইন অনুযায়ী আমাদের সন্তানদের সাথে আমাদের দেখা করার সুযোগ থাকলেও তা দেয়া হচ্ছেনা। ৪ দিন পরও তাদেরকে আটক না দেখানো দেশের প্রচলিত আইনে বে আইনি। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশেরও সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। যা অস্বাভাবিক বিষয়। আমারা এখন আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে শঙ্কিত।
আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের সন্তানকে যেন আমাদের হাতে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়। তাদেরকে নিয়ে যেন কোন নাটক সাজানো না হয়। আমাদের সন্তানরা যদি সত্যিই কোনো অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। আমরা জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমাদের সন্তানদের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
আমরা অবিলম্বে আমাদের ছেলেদের সন্ধান ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সন্তানদের আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিন। বাবা-মায়েদের আকুতি পদদলিত করবেন না। আমাদের সন্তানদের সন্ধানের জন্য জাতির পথ নির্দেশক সাংবাদিক ভাইদের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।

গ্রেফতারকৃত ৫ ছাত্রের মা/বাবা/ভাই
গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের তালিকা:
১. শাফিউল আলম
পিতা: আশরাফ উদ্দীন
ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী
গ্রাম: বাধাই, থানা: গোপালপুর, জেলা: টাঙ্গাইল
২. মনিরুল আলম
পিতা: আশরাফ উদ্দীন
চাকুরীজীবী
গ্রাম: বাধাই, থানা: গোপালপুর, জেলা: টাঙ্গাইল
৩। মোঃ আবুল হায়াত
পিতা: আব্দুর রউফ
চাকুরীজীবী
গ্রাম: বালিয়া ডাঙ্গা, থানা: সদর, জেলা: চাপাইনবাবগঞ্জ
৪। শফিউল্লাহ
পিতা: আব্দুল কুদ্দুস
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী
গ্রাম: পশুরিয়া, থানা: মঠবাড়িয়া, জেলা: পিরোজপুর
৫। মোশারফ হোসাইন মা’য়াজ
পিতা: সাইদুল ইসলাম
নবম শ্রেণীর ছাত্র।
গ্রাম: ডগাইর পশ্চিম পাড়া, পোষ্ট: সারুলিয়া থানা: ডেমরা, জেলা: ঢাকা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম। মোশারফ হোসাইন মা’য়াজ এর বাবা ছাইদুল ইসলাম ও মা রোকেয়া বেগম ও বড়বোন কামরুন্নাহার এবং সফিউল্লাহর ছোট মোঃ নাসরুল্লাহ।

মোবাইল ঃ ০১৭১৩-১৮৯০১২ (শাফিউল এর বড় ভাই)।
মোবাইল ঃ ০১৬১৪-৭৮৩০৭৮ (মা’য়াজ এর বড় বোন)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য