Gmail! | Yahoo! | Facbook

স্ত্রীর জন্য করণীয়গুলো কোনো কোনো স্বামী ভুলে থাকেন

FacebookTwitterGoogle+Share

azadiমাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী।। বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত একটি শ্রেণির নাম নারী। মা, বোন কিংবা স্ত্রী যে পর্যায়েই থাকুক না কেন বিভিন্নভাবে পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছে নারী। অথচ এ নারী শ্রেণিকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছে ধর্ম। হায়! ধর্ম কী বলছে আর আমরা কী করছি। নারীর অর্থনৈতিক দায়িত্ব পুরুষের কাঁধে। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষ নারীর পরিচালক। আল্লাহ পুরুষকে যে অতিরিক্ত অনুগ্রহ করেছেন এবং সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্য দিয়েছেন তা দিয়ে সে নারীকে শুধু পরিচালনা করবে। (সূরা নিসা : ৩৪।) এ আয়াতের তাফসিরে এক তাফসিরকারক লেখেন, ‘স্ত্রীসহ পরিবারের সব সদস্যের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীকে বহন করতে হবে। স্ত্রী বিপুল সম্পদের অধিকারী হলেও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব থেকে স্বামী রেহাই পাবে না। স্বামী দরিদ্র হলে তার সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ দায়িত্ব থেকে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। (হিদায়াতুল কোরআন : ২/৩৬৪।)

স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর ওপর ফরজ। এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে ফকিহরা বলেন, ‘স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করতে হয় মূলত তাকে আবদ্ধ রাখার বিনিময়ে। শরিয়ত এবং যুক্তির দাবি হলো, কেউ যদি কাউকে উপকার এবং কল্যাণ লাভের জন্য আবদ্ধ রাখে এবং এ কারণে আবদ্ধ হওয়া ব্যক্তি জীবিকা অর্জনের সুযোগ না পায় তবে তার ভরণ-পোষণ এবং যাবতীয় প্রয়োজন পূর্ণ করা ওই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক, যে তাকে আবদ্ধ রেখেছে বা যার জন্য সে আবদ্ধ হয়ে আছে। যেহেতু স্বামীর প্রয়োজনে স্ত্রী আবদ্ধ থাকে এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ সে পায় না, তাই স্ত্রীর যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর ওপর ফরজ। আর এ ফরজ আদায় করতে হবে সম্মানের সঙ্গে। (হোসনে মুশারাআত : ১৩৭।)

অনেক স্বামীই ভরণ-পোষণ করা নিয়ে স্ত্রীকে খোটা দেন। স্ত্রীরাও এ নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে ভরণ-পোষণ স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর জন্য অনুগ্রহ নয় বরং অবশ্য কর্তব্য। এ কর্তব্যে গড়িমসি বা অবহেলা করা বড় ধরনের অন্যায়।

হজরত আবদুল্লাহ আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি গুনাহগার হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তার দায়িত্বে যারা পালিত হয়, তাদের ঠিকঠাক ভরণ-পোষণ করে না।’ (আবু দাউদ : ১৬৯২।) হজরত খায়সাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের সঙ্গে বসা ছিলাম। এমন সময় তার কোষাধ্যক্ষ এলো। আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি চাকরদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছ? কোষাধ্যক্ষ বলল, না। আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, যাও তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে আস। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এর এত সুন্দর আচরণ দেখে বর্ণনাকারী খায়সাম (রা.) বলেন, ভাই আবদুল্লাহ! আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যার কাঁধে কারও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন না করাই ওই ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (মুসলিম : ২১৮৩।)

স্ত্রীর উচিত স্বামীর সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে তার প্রয়োজন পূর্ণ করা। অনেক স্ত্রীই আছেন স্বামীর সাধ্যের বাইরে এমন আবদার করেন যা পূরণ করতে গিয়ে স্বামীকে হিমশিম খেতে হয়, অন্যায় করতে হয়। একইভাবে অনেক স্বামী আছেন অন্য সব বিষয় ঠিক থাকলেও স্ত্রীর বেলায় খরচের ব্যাপারে কার্পণ্য করেন। এ দুটি আচরণই সুন্দর দাম্পত্য জীবনের পথে বড় অন্তরায়। এ সমস্যার সমাধান দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘সচ্ছল ব্যক্তি নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার ও সন্তান-সন্ততির জন্য ব্যয় করবে। আর যার সম্পদ সীমিত, সেও ব্যয় করবে আল্লাহ যে অল্প সম্পদ দিয়েছেন তা থেকেই। আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি বোঝা তিনি কারও ওপরে চাপান না। আর মনে রেখ! অভাবের পরই আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেন।’ (সূরা তালাক : ৭।)

স্বামীর ওপর ভরণ-পোষণ তখনই আবশ্যক হবে, যখন স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে থাকে। এ সম্পর্কে মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) লেখেন, ‘অনেক স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর কাছে খোরপোষ দাবি করে। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং স্বামীর কাছে ভরণ-পোষণ দাবি করার জন্য স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করা শর্ত।’ (হোসনে মুশারাআত : ১৩৮।) অনেক স্বামী ভরণ-পোষণের ভয়ে বা অভাবের দোহাই দিয়ে নিলর্জ্জের মতো নিজের স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে রেখে দেয় বছরের পর বছর। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। এ ধরনের কাপুরুষোচিত আচরণ না করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যে ধরনের ঘরে বাস কর, তোমাদের স্ত্রীদেরও সে ধরনের ঘরেই বাস করতে দেবে। সমস্যায় বা সংকটে ফেলার উদ্দেশ্যে স্ত্রীদের উত্ত্যক্ত কর না।’ (সূরা তালাক : ৬)।

আল্লাহ আমাদের স্ত্রীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অনেক বেশি তৌফিক দিন। দুনিয়াজুড়ে স্বামীরা স্ত্রীর এ দিকটির প্রতি বেখেয়াল থাকেন। হে আল্লাহ, স্বামীদের হেদায়েত দিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

সৌজন্যে- বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন্তব্য