Gmail! | Yahoo! | Facbook

দেশে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

FacebookTwitterGoogle+Share

cold 8-1-18ঢাকা, ৮ জানুয়ারী ২০১৮ঃ আসি আসি বলেও আসছিল না শীত। ২০১৭ সালের বিদায়বেলায় ডিসেম্বর মাসে হালকা শীতের সঙ্গে গরম কিছুটা আঁচড় কেটেছিল। তবে আজ সোমবার অবস্থা এমনই হলো যে বাংলাদেশের ইতিহাসে শীত পড়ার সব রেকর্ড ভেঙে গেল। তাই ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’ প্রবাদও বদলে হয়ে যেতে পারে—‘পৌষের শীতে বাঘ কাঁপে’। কারণ, আজ কেবল ২৫ পৌষ। এখনো পড়ে আছে পুরো মাঘ মাস।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। দেশের উত্তরের শেষ প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র শীতের এই রেকর্ড ৫০ বছর ধরে রেখেছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। পাহাড়-টিলায় ঘেরা এই এলাকায় ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এটিই ছিল বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এরপর প্রতিবছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও দেশের কোথাও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই।

২০১৩ সালে অবশ্য ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। ওই বছর ১০ জানুয়ারি নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ সেলসিয়াস। এর আগের দিন ৯ জানুয়ারি দিনাজপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অবশ্য বাংলাদেশে শূন্য ডিগ্রি বা এর কম তাপমাত্রা পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে শীত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর একটি হলো সাইবেরিয়ার বাতাস। তবে বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই এই বাতাসে শীতের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু এ সময় সাইবেরিয়ার বাতাসে যে মাত্রার ঠান্ডা থাকে সেটি এ দেশের মানুষের কাছে সহনীয় নয়।

coldএদিকে আজ যেন সারা দেশেই শীত জেঁকে বসেছে। আর কাঁপন ধরানো শীতের মাত্রা তুলনামূলক বেশি উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে আজ দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ছিল তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই জেলার ডিমলায় ছিল ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩, দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুরের পর শীতের তীব্রতা বেশি রাজশাহী বিভাগে। এই বিভাগের সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া রাজশাহী জেলায় ছিল ৫ দশমিক ৩, বগুড়া ও ঈশ্বরদীতে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উত্তরের জেলায় শীতের তীব্রতা এতটাই বেশি যে রাতের বেলায় আকাশ থেকে ঝরছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। দিনের বেলায়ও কুয়াশার রেশ কাটেনি। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস। তাই স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এখন আগুনের কুণ্ডলী। শীতের ছোবল থেকে বাঁচতে দিনরাত সব সময়ই তাঁরা আগুনের কাছে দাঁড়িয়ে নিজেদের রক্ষা করছেন।

প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, হাড়–কাঁপানো শীতে এখানকার জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই হয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দরিদ্র, ছিন্নমূল, ভাসমান ও স্বল্প আয়ের মানুষ। জেলা শহরে সাধারণ মানুষ ও রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম করছে। তবে লেপ-তোশক ও শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আলুর খেতে লেটব্রাইট রোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, আলুখেত লেটব্রাইট রোগ থেকে রক্ষা করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।

শীতের কারণে নানা ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে জানিয়ে পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগ ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে।

উত্তরের মতো দক্ষিণাও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৪, যশোরে ৫ দশমিক ৬, সাতক্ষীরায় ৭ দশমিক ৫ ও খুলনায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানীসহ দেশের মধ্যাঞ্চলেও মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫, টাঙ্গাইলে ৬, গোপালগঞ্জে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৫, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন থাকবে মন্তব্য করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এশিয়ায় সাইবেরীয় উচ্চ চাপবলয়ের কারণে ১০ জানুয়ারির পর সারা দেশে সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

মন্তব্য