Gmail! | Yahoo! | Facbook

পিলখানা হত্যা মামলা: হাইকোর্টের ১০ হাজার পৃষ্ঠার রায়, এক হাজার পৃষ্ঠার পর্যব্ক্ষেণ

FacebookTwitterGoogle+Share
রায় পড়তে সময় লাগবে কয়েকদিন

HCঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০১৭ঃ পিলখানা হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে রোববার সকাল থেকে। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিচ্ছেন।

বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এদিকে ১০ হাজার পৃষ্ঠার এ রায় পড়তে কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের সার সংক্ষেপ পড়ার সময় আদালত একথা জানান।

আদালত বলেন, ‘রায়ে প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দেবো। রায়টি সবমিলিয়ে ১০ হাজার পৃষ্ঠার বেশি। রায় পুরো পড়বো না। তবে পুরো পর্যবেক্ষণটি আমরা পড়ে শুনাবো। পূর্ণ পর্যবেক্ষণ শেষে আমরা সামারিলি জাজমেন্ট (সংক্ষিপ্ত রায়) দেবো। সেখানে রায়ের ফাউন্ডেশন (মূল ভিত্তি) অংশেকে কোন কারণে কী সাজা পেয়েছেন তা আমরা উল্লেখ করবো। এ কারণে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই হত্যা মামলায় ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় দেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান।

১৩ এপ্রিল এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল। এর আগে বিভিন্ন সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও শুনানিতে অংশ নেন।

পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন ও আপিল শুনানি শুরুর পর মোট ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি হয়।

এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। ঘটনার পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ হত্যা মামলার যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত ৮৪৬ জন জীবিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কারও কারও সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা সবাই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন। ওই রায়ের এক বছরেরও বেশি সময় পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করে আসামিপক্ষ। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষও খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে ও সাজা বাড়াতে আপিল করে। এর মধ্যে পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। যুগান্তর

মন্তব্য