Gmail! | Yahoo! | Facbook

প্রসার ঘটুক গণিত শিক্ষার

FacebookTwitterGoogle+Share

tayebফয়েজ আহমদ তৈয়্যব: শ্রেণীকক্ষে গণিত শিক্ষা আনন্দঘন, টুলস বেজড ইনস্ট্রুমেন্টাল ও অ্যাপ্লিকেশন ওরিয়েন্টেড করতে হবে। গণিতের বিশেষ বিশেষ শাখা, ধারা, অধ্যায়-কনটেন্ট ও সূত্রের প্রয়োগ কী কী ধরনের অ্যামেজিং সব সমাধানে কাজে আসে— এ ইন্টারেস্টিং আলোচনা ক্লাসরুমে নিয়ে আসতে হবে। ইউরোপীয় গণিত শিক্ষণ পদ্ধতি, মন্টেস্বরী, কুমন ইত্যাদি প্রায়োগিক গণিত শিক্ষার মডেল কীভাবে আমাদের প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় আনা যায়, তার কেন্দ্রীয় তত্পরতা শুরু করা দরকার।

আমাদের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি উচ্চশিক্ষার গণিত শিক্ষা পাঠ্যক্রম ভারতীয়, চীনা, অক্সফোর্ড কিংবা ইউরোপীয় সিলেবাসের তুলনায় বেশ পশ্চাত্পদ। আমাদের গণিত বইয়ের কন্টেন্ট খুবই পুওর, সংজ্ঞাগুলো ইনকমপ্লিট, ব্যাখ্যা পার্শিয়াল, থিউরি কিংবা ডোমেইনগুলোর অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কিত ধারণা একেবারেই দেয়া হয় না। উদাহরণের ওপর ফোকাস নেই, মূলত কিছু অনুশীলনীর ওপর ফোকাস দেয়া হয়, যেখান থেকে হুবহু পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয়। এ সংকীর্ণতা থেকে বের হতে হবে। ভারতীয়, চীনা, ইউএস, অক্সফোর্ড কিংবা ইউরোপীয় সিলেবাসের আলোকে উচ্চমান রাইটার দিয়ে গণিতের টেক্সট বই সংকলনের কাজ করতে হবে (লিখন নয়)। বিদেশী গণিত ও বিজ্ঞানের বইয়ের বাংলা ভার্সন সহপাঠ্য হিসেবেও থাকতে পারে সেসব শিক্ষার্থীর জন্য, যাদের গণিতের প্রতি বিশেষ ঝোঁক আছে এবং যারা এক্সট্রা মাইল যেতে চান। অথবা বিখ্যাত খান একাডেমির গণিত ও বিজ্ঞানের কনটেন্ট বেজড লেকচারগুলোর আলোকেও আমাদের গণিত ও বিজ্ঞানের সিলেবাস সাজানো যেতে পারে।

আমাদের এসএসসি ও এইচএসসির মধ্যেই উচ্চমান ম্যাথের ফাউন্ডেশন নিয়ে আসতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা স্তরে/বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে গণিত ও বিজ্ঞানের বেসিক ফাউন্ডেশন কোর্স না করতে হয়। আমাদের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একাডেমিক পাথ একেবারেই অন্যায্য। প্রথমে গণিত ও বিজ্ঞানের ফাউন্ডেশনহীন নিম্নপর্যায়ের ম্যাথ জানা শিক্ষার্থীকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আনা হচ্ছে। এসএসসির ঠিক পরই ডিপ্লোমার সিলেবাসে কোর ডিপার্টমেন্টাল সাবজেক্টের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপ্লাইড ম্যাথ, মেকানিকসের মতো জটিল বিষয় পড়তে হয়, যার জন্য শিক্ষার্থী প্রস্তুত থাকেন না। ফলে না তিনি একজন রিসার্চার হয়ে ওঠেন, না হন হাতে-কলমে দক্ষ রিসোর্স। অন্যদিকে এইচএসসি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা শিক্ষার্থীও তুলনামূলক নিম্ন ফাউন্ডেশন নিয়ে আসেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর সেমিস্টারগুলোয় তুলনামূলক বেশি গণিত কোর্স পড়াতে হয়।

ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাথের প্রায়োগিক বিষয়, যেকোনো ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে বা তার ফাউন্ডেশন কোর্সে অত্যন্ত উচ্চপর্যায় পর্যন্ত ম্যাথ কোর্স থাকা বাধ্যতামূলক। গণিতের শিক্ষক কিংবা ম্যাথমেটিশিয়ানদের ম্যাথের বিভিন্ন শাখা ও সূত্রের  প্রায়োগিক দিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানতে হবে। কেননা গণিত সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাষা, এতে গণিত শিক্ষার শ্রেণীকক্ষ আনন্দময় হবে।

আমাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থী গণিত পড়ছেন না, এটা উদ্বেগের বিষয় বটে! ম্যাথমেটিশিয়ানদের প্রোগ্রামার, সফটওয়্যার ডিজাইনার, সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট, প্রসেস মডেলার কীভাবে বানানো যায়, সেটা নিয়ে টপ ডাউন ও বটম আপ উভয়মুখী কাজ করতে হবে। ম্যাথমেটিশিয়ানরা প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন করে নিজেদের দিগন্ত উন্মোচন করতে পারেন। সফটওয়্যার ডিজাইনে গণিতবিদ অসামান্য ভূমিকা রাখতে পারেন।

এটা করা গেলে আমাদের একটি নিজস্ব সফটওয়্যার, গেমিং, অটোমেশন ও প্রসেস ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রির সূচনা করার স্বপ্ন আরো বেগবান হবে। আমাদের গত্বাঁধা অ্যানালগ প্রশাসনিক কাজের অটোমেশন করতে, ডিজিটাল অ্যাডমিন কিংবা প্রশাসনিক প্রসেস ফ্লো তৈরিতে, দুর্নীতি প্রতিরোধী সফটওয়্যার অটোমেশনে গণিতবিদরা ভূমিকা রাখতে পারেন। নীতিনির্ধারকদের এগুলো নিয়ে মাথা না ঘামালে পরিবর্তন আসবে না ঠিক, তবে গণিতসংশ্লিষ্টদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

শুধু শিক্ষকতাই গণিতবিদের একমাত্র কাজ নয়। এটা গণিতবিদদেরই বুঝিয়ে দিতে হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অল্টারনেট সমাধান দিয়ে। তবে হ্যাঁ, শিক্ষকতা অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মেধার সঠিক পরিচর্যা হোক, গণিত শিক্ষা বিকশিত হোক।

 

লেখকপ্রকৌশলী

faiz.taiyeb@gmail.com

মন্তব্য