Gmail! | Yahoo! | Facbook

আট বছরে ৫০ হাজার নতুন কোটিপতি

FacebookTwitterGoogle+Share

বাড়ছে ধনী-গরিবের বৈষম্য ; সাথে বাড়ছে ঋণখেলাপির সংখ্যাও

Takaআশরাফুল ইসলাম, ২৯ জুন ২০১৭: দেশে অস্বাভাবিক হারে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ৮ বছরে (২০০৯-১৬) কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে এ দেশে কোটিপতি ছিলেন ১৯ হাজার জন। ২০১৬ শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ হাজারে। এ সময়ে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির হার আড়াই শ’ শতাংশ। তবে কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও ুদ্র আমানতকারীদের আমানত বাড়েনি, বরং আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০০৮ সালে ুদ্র আমানতকারীদের আমানত ছিল মোট আমানতের ৩৬ শতাংশ, গত বছর শেষে তা নেমেছে ৮ শতাংশে।

দেশে শুধু কোটিপতির সংখ্যাই বাড়ছে না। বাড়ছে ঋণখেলাপির সংখ্যাও। বর্তমানে দেশে ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই লাখ দুই হাজার ৬২৩ বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজের এই তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অবলোপনসহ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে এক কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার। এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অর্থ মজুদ রয়েছে প্রায় তিন লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আর ৭৫ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট আছে ২৮ হাজার ৬৮৮টি। এর বিপরীতে অর্থমজুদ রয়েছে ২৫ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। আর ৫০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকে জমা রেখেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৭৬৯। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা মজুদ রয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যাই শুধু বাড়েনি, তাদের আকাউন্টে জমার পরিমাণও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আট বছরে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে মোট আমানতের ৪১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ আট বছর আগে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে মজুদের হার ছিল মোট আমানতের ৩০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যা না বাড়ার অর্থই হলো দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে গেছে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। অপর দিকে গরিবরা আরো গরিব হচ্ছে। এ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য দারিদ্র্য বিমোচনমুখীনীতি বেশি করে গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর অ্যাকাউন্ট রয়েছে আট কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৬টি। এর বিপরীতে আমানত রয়েছে আট লাখ ৯৯ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে এক হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে আমানত রয়েছে মোট আমানতের মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে আট বছর আগে ছিল ৩৬ শতাংশ। পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের আমানত যেখানে ছিল মোট আমানতের এক দশমিক ২৭ শতাংশ, সেখানে গত ডিসেম্বর শেষে তা নেমেছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের আমানত ছিল মোট আমানতের ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যেখানে গত ডিসেম্বর শেষে তা নেমেছে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত আমানতকারীদের আমানত কমে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশে, ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের আমানত ১০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ থেকে ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে এবং ৫০ হাজার এক টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের আমানত মোট আমানতের অংশ কমে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমেছে।
ুদ্র আমানতকারীদের আমানত কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ুদ্র আমানতকারীরা তাদের আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে পারছেন না। সবধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। এর পাশাপাশি বেড়েছে বাসাভাড়াসহ বিদ্যুতের দাম। সবমিলে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এর ফলে আগে যে পরিমাণ আয় দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যেত, এখন তা দিয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হচ্ছে রেশনিং করে অর্থাৎ কম ব্যয় করে। আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে না পারায় তারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখার কথা ভাবতেই পারছেন না। এতে গরিব আরো গরিব হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যা তুলনামূলক না বাড়ার মূল কারণ হলো সম্পদের বণ্টন ঠিকভাবে হচ্ছে না। এতে গরিবরা আরো গরিব হচ্ছে। পাশাপাশি এক শ্রেণীর মানুষ সম্পদশালী হচ্ছে। এর ফলে সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য বেড়ে চলছে। মানুষ আয়ের সাথে ব্যয় মেলাতে পারছে না। যে পরিমাণ আয় করছে সংসারের ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।

- নয়া দিগন্ত প্রতিবেদন

মন্তব্য