Gmail! | Yahoo! | Facbook

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি

FacebookTwitterGoogle+Share

padma bridge layoutঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ঃ বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা থেকে এসএনসি লাভালিনের সাবেক তিন নির্বাহী  কর্মকর্তাকে খালাস দিয়েছে কানাডার এক আদালত। ওই আদালতের বিচারক বলেছেন, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলে নি। এ খবর দিয়েছে কানাডার অনলাইন দ্য স্টার পত্রিকা।

বলা হয়েছে, এ দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) মামলা করেছিল।

আদালত বলেছে, তারা শুধু গুজব, সন্দেহের ভিত্তিতে মামলা করেছে। অভিযোগ করা হয়েছিল, পদ্মা সেতুর কাজ পেতে কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএমসি লাভালিন ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল তার মধ্যে রয়েছেন এসএমসির জ্বালানি ও অবকাঠামোবিষয়ক সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশ-কানাডার দ্বৈত নাগরিক জুলফিকার আলী ভুঁইয়া।

বলা হয়েছিল, তারা বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর কাজ পেতে বিদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্য স্টার পত্রিকা লিখেছে, ওই তিন নাগরিক নিজেদের নির্দোষ দাবি করার আগে সুপিরিয়র কোর্ট জাস্টিস ইয়ান নর্ডেইমারের সামনে ফেডারেল ক্রাউন অ্যাটর্নি তানিত গিলিয়াম বলেন যে, তিনি আর কোনো তথ্যপ্রমাণ চাইবেন না। একই সঙ্গে তিনি বিচারকের কাছে এসএনসি লাভালিনের ওই তিন কর্মকর্তাকে খালাস দেয়ার আবেদন করেন। তিনি আদালতে স্বীকার করেন যে, ‘ওয়্যাটেপ’ প্রমাণ ছাড়া তার কাছে আর কোনো প্রমাণ নেই, যার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিদের যৌক্তিকভাবে অভিযুক্ত করা যায়। ইয়ান নর্ডেইমার এর আগে রায় দিয়েছিলেন যে, আরসিএমপির এক কর্মকর্তা অভিযুক্ত ওইসব ব্যক্তির ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা কথোপকথনে আড়ি পেতে পাওয়া যে তথ্য হাজির করেছেন তার যথার্থ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই ফোনে আড়ি পেতে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ নাকচ করে দেন আদালত। একই সঙ্গে আরসিএমপির তদন্তের সমালোচনা করা হয়।

বিচারক ইয়ান নর্ডেইমার তার রায়ে লিখেছেন, ইনফরমেশন টু অবটেইন (আইটিও)তে  পাওয়া যেসব তথ্য হাজির করা হয়েছে তা আন্দাজ (স্পেকুলেশন), পরচর্চা (গসিপ) ও  গুজব (রিউমার) ছাড়া কিছু নয়। সরাসরি বাস্তবসম্মত প্রমাণ উপস্থাপনে কিছুই করা হয় নি, যা দিয়ে ওইসব রিউমার ও স্পেকুলেশনকে সমর্থন করা যায়। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুতে এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক তার অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল ২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ এসএনসি লাভালিনকে পাইয়ে দিতে এ সংস্থার ওই তিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে পিছিয়ে পড়ে। ওই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ৫ কোটি ডলারের নির্মাণ সুপারভিশন কন্ট্রাক্ট করার জন্য কোম্পানি খুঁজছিল।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রাথমিক ঋণ দাতা হিসেবে এগিয়ে এসেছিল বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সবই এলোমেলো হয়ে যায় ওই কথিত দুর্নীতির খবরে। এ বিষয়ে এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে দ্য স্টার পত্রিকা। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয় নি। প্রতিক্রিয়া দেয় নি আরসিএমপি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য এসএনসি লাভালিন দায়িত্ব দিয়েছিল তাদের সিনিয়র নির্বাহী কেভিন ওয়ালেসকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় ২০১৩ সালে। কেভিন ওয়ালেস শুক্রবারের রায়ের পর নিজে কোনো প্রতিক্রিয়া দেন নি। তবে তার আইনজীবী স্কট ফেন্টন বলেছেন, তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মক্কেল যথার্থ বিচার পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আড়ি পেতে পাওয়ায় যে আন্দাজ, অনুমান ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল তাতে কোনো প্রমাণ ছিল না। ওই অভিযোগ আনার ফলে একজন নির্দোষ ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়ে নাড়াচাড়া করা হয়েছে।

এ মামলায় বলা হয়েছিল বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর প্রতিনিধিত্ব করছিলেন জুলফিকার আলী ভুঁইয়া। এর আগে আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ স্থগিত (স্টে) করা হয়েছিল। এ বিষয়ে জুলফিকার আলী ভুঁইয়ার আইনজীবী ফ্রাঙ্ক আদ্দারিও এবং রমেশ শাহ’র আইনজীবী ডেভিড কাজিনস বলেছেন, আদালতের সর্বশেষ রায়ে তাদের মক্কেলরা স্বস্তি পেয়েছেন। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু বিষয়ে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কন্ট্রাক্টের (সিএসসি) জন্য ৫টি কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় আনা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল এসএনসি লাভালিন। দরপত্র প্রক্রিয়ায় এ কোম্পানিটি যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল তখন বিশ্বব্যাংকের একটি তদন্ত ইউনিট আরসিএমপির দ্বারস্থ হয় ২০১১ সালে। তাতে অভিযোগ করা হয়, এসএনসি লাভালিন ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের মধ্যে সম্ভাব্য দুর্নীতি হয়েছে। মানব জমিন

মন্তব্য