Gmail! | Yahoo! | Facbook

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

FacebookTwitterGoogle+Share

bhasaniঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ঃ সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি মজলুম জননেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। তাকে বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনীতিকের গুরু বলে ধরা হয়। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন বরেণ্য এই রাজনীতিবিদ। তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণ-আন্দোলনের এই নায়ককে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। সুদীর্ঘ ৭৫ বছরের অধিককাল জাতীয় জীবনের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নেই যেখানে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল না।
এ দিকে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক অনুসারী, ভক্ত ও অনুরাগী এবং বিভিন্ন সংগঠন তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজধানী ও টাঙ্গাইলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা এবং টাঙ্গাইলে স্মরণসভার আয়োজন করে বিএনপি।
১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হামিদ খান। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন তিনি। অল্প বয়সেই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা শাহ নাসিরউদ্দিন বোগদাদী (রহ:)-এর সংস্পর্শে এসে তিনি নতুন জীবনবোধে অনুপ্রাণিত হন। ইসালামি শিক্ষা অর্জনের ল্েয ১৯০৭ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত কওমি মাদরাসা দেওবন্দে অধ্যয়ন শুরু করেন তিনি। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে যান। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারাভোগ করেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন তিনি। সেই থেকে তার নামের সাথে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়। ১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন ও স্বেচ্ছাচারবিরোধী ২১ দফা সংগ্রাম, ’৫৭-র কাগমারী সম্মেলন, ’৬২-র শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ’৬৯-র আইয়ুববিরোধী গণ-আন্দোলন, ’৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৭২-৭৫ আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী সংগ্রাম, ’৭৬-এ ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফারাক্কা লংমার্চে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে লাখো কোটি মানুষকে উজ্জীবিত করেন মওলানা ভাসানী।
রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ভাসানীর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং রূহের মাগফেরাত কামনা করি। তিনি বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। তার নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণ।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন এ দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মওলানা ভাসানী প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে এবং শোষণ ও বঞ্চনাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন।
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মজলুম নেতার ছিল গভীর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও আদর্শিক ঐক্য।
তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
কর্মসূচি : তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলে বিভিন্ন সংগঠন গতকাল আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এ ছাড়া আজো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপি : ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল টাঙ্গাইলের সন্তোষে কবর জিয়ারত করে সেখানে আলোচনা সভা করেছে স্থানীয় বিএনপি ও মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ। সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেস কাবে সভা করেছে বিএনপি।
ন্যাপ-ভাসানী : ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ-ভাসানী) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: আজহারুল ইসলাম ও অতিরিক্ত মহাসচিব মো: রুহুল আমিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক মহাসঙ্কট থেকে উত্তরণে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের নিষ্পেশন থেকে গরিব দুঃখী ও মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য মাওলানা ভাসানীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা একান্ত বাঞ্ছনীয়। ভাসানীর মুত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভা এবং কাল শুক্রবার বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
ভাসানী অনুসারী পরিষদ : ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছে ভাসানী অনুসারী পরিষদ। আজ সকালে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের নেতৃত্বে মওলানা ভাসানীর মাজারে সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আগামী ২৫ নভেম্বর ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া গতকাল টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে টাঙ্গাইল জেলা কমিটি এক আলোচনা সভা করেছে। এতে সংগঠনের চেয়ারম্যান, ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধান অতিথি ও মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ জানাতে সন্তোষে আজ ঢল নামবে মানুষের। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে এই নেতার মাজারে। ক’দিন আগে থেকেই মওলানা ভাসানীর অনুসারী ও মুরিদানরা সন্তোষে আসা শুরু করেন।
এ উপলক্ষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠান খতমে কুরআন, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও গ্রহণ করেছে পৃথক কর্মসূচি।

মন্তব্য