Gmail! | Yahoo! | Facbook

ব্যাংক পরিচালকদের মিলেমিশে ভাগাভাগি: ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা

FacebookTwitterGoogle+Share

takaঢাকা, ৩ অক্টোবর ২০১৬ঃ ব্যাংক পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে জুন পর্যন্ত মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ।

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে চলমান ৫৬টি ব্যাংকের বেশিরভাগ পরিচালক এভাবে নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ব্যাংকগুলোর পরিচালকের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি হলেও এ ধরনের সমঝোতাভিত্তিক বড় অংকের ঋণ বিনিময় করেন প্রায় ৫০ জন। যাদের কয়েকজন বেশি বিতর্কিত। মূলত এদের কাছে পুরো ব্যাংকিং সেক্টর জিম্মি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আসলে ব্যাংকের ঋণ গিলে খাচ্ছে ব্যাংকের মালিকপক্ষ তথা কিছু পরিচালক। যাদের নিজেদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানও আছে। তাদের কাছে ব্যাংক কোনো সেবামূলক লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়, এটিকে তারা ধরে নিয়েছে উল্টো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়ার মেশিন হিসেবে।

সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার প্রশ্নে ব্যাংকে তার আমানত রাখবে, আর সে টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করে নেবে। আবার নিজেরা ঋণ খেলাপি হয়ে তা একপর্যায়ে অবলোপনও করবে। অর্থাৎ মাছের তেলে মাছ ভাজার অবস্থা। এসব কারণে কয়েকটি ব্যাংকের ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। তাদের আশংকা, একসময় ভেতরের খোলস বেরিয়ে এলে বহু আমানতকারীকে পথে বসতে হবে। আর ব্যাংকের পরিচালক হয়েও যারা ঋণ নিচ্ছেন তাদের কোনো চিন্তা নেই। পরিস্থিতি খারাপ দেখলে সপরিবারে বিদেশে সটকে পড়বেন। ভবিষ্যতে এমন আশংকার কথা মাথায় রেখে তাদের প্রত্যেকে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনা থেকে শুরু করে নানা খাতে অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের পরিচালকদের যোগসাজশের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে এ ধরনের ‘কানেক্টিং লেনদেন’ বন্ধ করা উচিত। তা না হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে, যা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংকের পরিচালকদের নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কোনো বিধান নেই। অথচ বর্তমানে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে সমঝোতা করে ঋণ নিচ্ছেন। বলেÑ তুমি আমার ব্যাংক থেকে নাও, আমি তোমার ব্যাংক থেকে নেব।’ এটাও বেআইনি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত, এসব বিষয় কঠোর হস্তে দমন করা। তা না হলে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা সম্ভব হবে না।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের প্রায় সব ক’টি ব্যাংকের পরিচালকরা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ঋণ দেয়া নেয়া করেন। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া প্রায় ৪ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক প্রায় ৪ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক প্রায় ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক প্রায় ৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংক প্রায় ৩ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ৩ হাজার ১০১ কোটি টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রায় ২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক প্রায় ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রায় ১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া গত জুন পর্যন্ত নতুন কার্যক্রমে আসা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ঋণ দিয়েছে প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংক ৩৩৩ কোটি টাকা, মধুমতি ব্যাংক ৩১৬ কোটি টাকা, মেঘনা ব্যাংক ২৪৫ কোটি টাকা, ফারমার্স ব্যাংক প্রায় ১৮২ কোটি টাকা, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রায় ৫৯৩ কোটি টাকা প্রভৃতি। তবে অনিয়ম করে ঋণ দেয়ার দায়ে ৫ জন পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী শনিবার যুগান্তরকে বলেন, তার ব্যাংকের ৫ জন পরিচালক ৬৪ কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নিয়েছে। আরও ১৬৫ কোটি টাকা নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ধরা পড়ে যায়। এরই মধ্যে এসব পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এরা নিজের প্রতিষ্ঠান, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ও অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব অর্থ সরিয়েছে। সে কারণে ব্যাংকের পরিচালককে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এসব ব্যাংকের পরিচালকরা সরাসরি ব্যাংকের মালিক না হলেও পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যথারীতি ব্যাংকের মালিকের ভূমিকায় তারা অবতীর্ণ হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাদের নাকি ঋণ অনিয়ম করার সুযোগ বেশি। তাই তারা সরাসরি নিজেরা ঋণ না নিলেও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বড় অংকের ঋণ দিয়েছেন মরিয়া হয়ে। আবার কেউ কেউ ঋণের গ্যারান্টর হয়েও ঋণ দিয়েছেন।

এছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালকরাও খুব সহজে তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে পেরেছেন। সূত্র বলছে, এসব ঋণের মধ্যে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য জড়িত।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি খাতের সোনালী ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ঋণ দিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক ৬৪২ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রায় ৫৫৬ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৪৮৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রভাব পড়ছে বেসরকারি ব্যাংকেও। এটা ব্যাংক খাতের জন্য অশনিসংকেত। ব্যাংকের মালিকরা সৎ না হলে খেলাপি ঋণ বাড়বে। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে সুদের হার কমানো যাবে না। আর সুদের হার কমাতে না পারলে বিনিয়োগ বাড়বে না।

তিনি বলেন, অপাত্রে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই হচ্ছে না। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং শৃংখলা ভেঙে পড়ার আশংকা করেন তিনি। পরিচালকের ঋণ গ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগসাজশে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে আইন পরিবর্তন করে হলেও এটা বন্ধ করা দরকার।

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারী এ চক্রের (ব্যাংকগুলোর প্রভাবশালী পরিচালক) ইশারায় ঋণ দেয়া নেয়া করা হয়। আবার বাস্তবে কেউ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হলেও এ চক্রকে খুশি করতে না পারলে ঋণ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ ঋণ পেতেও আগাম কমিশন গুনতে হয়। একশ্রেণীর পরিচালকরা এভাবে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দুর্নীতি করে থাকেন। মোদ্দাকথা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের লোককে ঋণ দেয়া হয়। আবার তারা নিজেদের স্বার্থের প্রশ্নে নামে-বেনামে বারবার ঋণ নিচ্ছেন। এসব ঋণের বেশির ভাগই আর ফেরত আসছে না। হয়ে যাচ্ছে খেলাপি। এরপর অবলোপন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারকে অর্থনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে ব্যাংক মালিকরা। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হলেও অনেক ক্ষেত্রে উপরের চাপে বা ইশারায় এসব বিষয় জেনেও চুপ থাকতে হয়।

অবশ্য মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন যুগান্তরের কাছে দাবি করেন ব্যাংকের বেশিরভাগ পরিচালক ভালো ব্যবসায়ী। আইন মেনে তারা ঋণ নিতে পারেন। এতে দোষের কিছু নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে ব্যাংক মালিকরা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালককে মোট ঋণ দিয়েছেন ৯০ হাজার ৫৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণের এ ঋণ পরিচালকরা পারস্পরিক যোগসাজশ করে নিয়েছেন। তারা একে অপরকে ঋণ দেয়ার শর্তে এসব অর্থ ছাড় করেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে আরও বলেন, ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। আর এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ দেয়ার কারণে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেয়া হয়। এটা বেশি চলে সরকারি ব্যাংকে। এজন্য দায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়। কারণ সরকারি ব্যাংকে ভালো লোক নিয়োগ দেয়া হয় না। বিশেষ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিরা দুর্নীতিবাজ। এদের যোগসাজশে ঋণ দেয়া হয়। পরে সে ঋণ কুঋণে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। বিগত বছরগুলোতে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে সেগুলোই আবার খেলাপি হচ্ছে। এটি সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালককে ঋণ দিতে আইনে কোনো বাধা নেই। তবে খতিয়ে দেখতে হবে অনিয়ম করে কোনো ঋণ দিয়েছেন কিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যাংকের পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের কোনো পরিচালক নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে গ্যারান্টার হওয়ারও সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে মূল শেয়ারের ৫০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন, যা উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এছাড়া এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে সমঝোতা করে ঋণ নিতে পারবেন না। তবে ব্যবসা উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো ভালো ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। যদিও তিনি অন্য ব্যাংকের পরিচালক হন। তবে সার্বিকভাবে ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্য পর্যালোচনা করে ঋণ নেয়া বা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে জানা গেছে, জুন পর্যন্ত ব্যাংক তার নিজের পরিচালক ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ৩৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। একইভাবে ব্যাংক তাদের পরিচালকদের কমিটমেন্ট/আন্ডারটেকিং বা গ্যারান্টার করে ঋণ দিয়েছে ২ হাজার ৪৮১ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের ১৫ শতাংশ পরিচালরা নিয়েছেন, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। পরিচালক নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার একটা সীমিত সীমা আছে। বর্তমানে একজন পরিচালক তার নিজের ব্যাংক থেকে মূল শেয়ারের ৫০ শতাংশ ঋণ নেয়ার বিধান রয়েছে। এ বিধানের অনেক সময় সঠিক পরিপালন হয় না।

ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে নিজের ব্যাংক থেকে পরিচালকের ঋণ নেয়ার বিদ্যমান সীমা উঠিয়ে দেয়ার পক্ষে মত দেন এ বিশ্লেষক। নিজের ব্যাংকে সীমা থাকায় এখানে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কিছুটা কম আছে, তবে এক পরিচালক অন্য পরিচালককে দেয়া ঋণের পরিমাণ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ব্যাংকিং খাতকে এর পরিণতি ভোগ করা লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি। যুগান্তর প্রতিবেদন

মন্তব্য