Gmail! | Yahoo! | Facbook

ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ডাকাতরা তৎপর

FacebookTwitterGoogle+Share

Dakat-3জুবায়ের আহমদ, ১৫ জুলাই ২০১৫ঃ আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানের বিশেষ করে মহাসড়কে ডাকাতরা তৎপর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন যানবাহন আটকে যাত্রীদের দেশী ও আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় সময়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। অনুরূপ গত শুক্রবার দিবাগত রাত অনুমান ১টারদিকে বাহুবল উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়কের আদিত্যপুরের নিকট যানবাহনে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এবার এলাকাবাসীই ৩ ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হন। পুলিশ ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ১টারদিকে মহাসড়কে ৮/৯ জনের এক অস্ত্রধারী ডাকাতদল উভয়মুখী যানবাহনের গতিরোধ করতে ধারালো ত্রিমুখী রড নিক্ষেপ করছে। অনেকটাই লক্ষ্য বিভ্রাট হওয়ায় টার্গেট ফেল হয় ডাকাতদের। এভাবে মহাসড়কের ফুটপাতের নিচু অংশে সম্পূর্ণ নিজেদের আড়াল অবস্থায় হঠাৎ অতর্কিতভাবে ২ থেকে ৩ জন চলন্ত যানবাহনে ওই রড নিক্ষেপ করছে। আর বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছে ডুবাঐ বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে আদিত্যপুর মহিষদুলং গ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা ডাকাতদল নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যাবসায়ীরা খুব সঙ্গোপনে গ্রামবাসীদের খবর দিয়ে নিয়ে এসে কৌশলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়ে ক্রমান্বয়ে এগোতে থাকেন। এসময় জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে জনতাকে লক্ষ্য করে অন্ধকার থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে বলে গ্রামবাসী জানান। কিন্তু এতকিছুর পর গ্রামবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে ডাকাতদের পাকড়াও করতে চাইলে ডাকাতরা মহাসড়কের পশ্চিম দিকে জমি দিয়ে পালিয়ে যেতে থাকলেও দৌড়িয়ে ৩ ডাকাতকে আটক করে নিয়ে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে বাহুবল মডলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাত থেকে ডাকাতদের উদ্ধার করতে চাইলে গ্রামবাসী তাৎক্ষণিক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাইকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং ৩ ডাকাতকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

Dakat-2জনতার জালে আটক ডাকাতরা হলো অলুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের মঈন উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান (৩০), অলুয়া গ্রামের আহম্মদ আলীর পুত্র সাজিদ মিয়া ওরফে ছাদিক মিয়া (২২) ও শরীয়তপুর জেলার সখীপুর উপজেলার দণিচর গ্রামের দুদু মিয়ার পুত্র রানা (২৮)। পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের চক্রের বিভিন্ন টিমের ২১/২২ জনের নাম প্রকাশ করে। গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমান ও এসআই আজিজুর রহমান নাঈমের নেতৃত্বে পুলিশ রাতেই সহযোগী ২জনকে ভেড়াখাল গ্রামের বাইট্টা ছত্তারের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন। তারা হল ভেড়াখাল গ্রামের আব্দুল হাফিজের পুত্র কামরুল (২৩) ও ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদের পুত্র সোহেল ওরফে হানিফ (২৩)। কামরুল ও হানিফসহ ৫/৬ জন পালিয়ে গিয়েছিল। পালিয়ে গিয়ে বাইট্টা ছত্তারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে যাওয়া পুটিজুরী এলাকার আরো ৩/৪ জনকে পুলিশে হানা দিয়েও পায়নি। তবে পুলিশ তাদের পাকড়া করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে আটক ডাকাতরা জনতার মধ্যে কয়েক জনের কাছে রুদ্ধদ্বার ভাবে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সাথে জড়িত মিরপুর, বাহুবল ও পুটিজুরী ও উপজেলার বাইরের মোট ২১/২২ জনের নাম প্রকাশ করে। তাদের তথ্যও পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে বলে জানান লোকজন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ নাম গোপন রাখছে।

মন্তব্য