Gmail! | Yahoo! | Facbook

তামাক গিলে খাচ্ছে মানিকগঞ্জের ফসলী জমি

FacebookTwitterGoogle+Share

জমির উর্বরতা হ্রাস, বাতাসে বিষাক্ত দুর্গন্ধ, স্বাস্থ্য ঝুকিতে শিশুরা 
tobacco-manikgonjআব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ২০ মেঃ মানিকগঞ্জে দিন দিন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাক চাষ। সরকারি বিধি নিষেধ জোরদার না থাকায় ফসলী জমিতে কৃষিজাত শস্য বাদ দিয়ে চাষীরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। সামান্য পুজিতে বেশী মুনাফার ফাঁদে উৎসাহিত হয়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে তামাকের আবাদ। এতে এক দিকে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরা শক্তি, অপরদিকে স্থানীয় কৃষক পরিবারে দেখা দিয়েছে নানা রোগব্যাধি। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও টোব্যাকো কোম্পানীর সহযোগিতায় কৃষকরা দিনদিন তামাক চাষে ঝুকেেছন। অপরদিকে একাধীক তামাক চাষী জানান, তামাক চাষেই ঘুরে গেছে তাদের ভাগ্যের চাকা ।
জেলার দৌলতপুর, ঘিওর, সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পরিমান তামাক চাষ হয়। এভাবে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেলে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুকিতে পড়ার আশংকা করছেন সমাজের বিশিষ্টজনরা। আর তাই “বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসে” তামাককে না বলুন এ শে¬াগান সামনে রেখে সরকারী বিধি নিষেধ জোরদার করে এ অঞ্চলের তামাক চাষীদের সচেতন করে লাভজনক অন্নান্য ফসল আবাদের জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভগি এলাকাবাসি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য হানীর বিপর্যয় থেকে রেহাই পেতে পরিবেশ রক্ষায় তামাক চাষীদের অন্য ফসল আবাদের আহ্বান জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তামাকের চারা জমিতে রোপন করে সামান্য পরিচর্যাতে ৬ মাসে পরিপক্ক তামাক পাতা উৎপাদন হয়। চাষীরা সে পাতা সংগ্রহ করে ঝুলিয়ে রাখেন বাড়ির উঠানে। এসময় বাতাসে তামাকের নেশাজাতীয় যে গন্ধ ছড়ায় তা একজন সুস্থ মানুষের জন্য শুধু বিরক্তিকরই নয় রীতিমত স্বাস্থ্যহানীর বিপর্যয় ঘটার আশংকা করছে স্থানীয়রা। তামাক পাতা সংগ্রহ, শুকানো এবং বান্ডিল করার কাজে কৃষক পরিবারের চাপের মুখে ছোট ছেলে-মেয়েরা জরিত রয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রতিবাদের কোন উপায় নেই শিশুদের। তামাক উৎপাদন-কৃত বাড়ির প্রতিবেশীরা হচ্ছে চরম ভুগান্তির শিকার। তামাক চাষ করেন না এমন প্রতিবেশীর বিরক্তিকর আপত্তি থাকলেও প্রতিবাদের উপায় না পেয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে অসংখ পরিবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওরের বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া, সিংজুরী, দৌলতপুরের চরাঞ্চল ও সাটুরিয়ার ফুকুর হাটি, তিল¬ী, হরগজ, বড়াইদ, দড়গ্রাম ও দিঘুলিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। তবে টোব্যাকো কোম্পানীর একাধিক কর্মী জানান, কৃষি অফিস দায় এড়াতে কমিয়ে বলেছে। মুলত আবাদের পরিমান আরো বেশী হবে। দরিদ্র ও হতাশা গ্রস্থ কৃষক পরিবার গুলোকে ধান, ভুট্রা, আলু, গম-সহ নানা কৃষিজাত পন্য উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করতে টোব্যাকো কোম্পানী গুলো তামাক চাষে বিনে পয়সায় বীজ, সার কীটনাষক ও সেচ দিয়ে উৎসাহিত করছে। এর পরেও চাষীদের জন্যে রয়েছে বিনা-সুদে ঋন। রয়েছে নির্ধারিত মুল্যে তামাক ক্রয়ের কোম্পানীর নিশ্চয়তার বিশেষ কার্ড। আর এ কারনেই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকায় দু’চোখ যে পর্যন্ত যায় শুধু তামাক আর তামাকের আবাদ। মনে হয় একেকটি ইউনিয়ন যেন তামাকের রাজ্য।
সাটুরিয়ার নাসুরপুরের আ:হালিম, উত্তর ছনকার তামাক চাষী মনু মিয়া জানান, এ বছর তিনি ২শ শতাংশ জমিতে মটর কালাইয়ের পরিবর্তে তামাক চাষ করেছেন। সব মিলে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। খরচ ছাড়াও দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
এ ব্যপারে মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন উপ পরিচালক কাজী নূরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জেলায় ২১৬৬ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। অতি মুনাফা পাওয়ার আশায় স্থানীয় কৃষকেরা তামাক চাষে ঝুকে পড়ছেন। তামাক স্বাস্থ্যেও জন্য খুবই ক্ষতিকর, এটি মানুষের কোন উপকারেই আসেনা।
এভাবে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেলে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুকিতে পড়ার আশংকা করছেন বলে মন্তব্য করছেন তিনি।

মন্তব্য