Gmail! | Yahoo! | Facbook

লেবুর গ্রাম মানিকগঞ্জের “বালিয়াখোড়া”

FacebookTwitterGoogle+Share

পাল্টে গেছে ৭ শত পরিবারের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট
manikgonj Lemonআব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ , ১৭ এপ্রিলঃ লেবুচাষ পাল্টে দিয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। উপজেলার বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের প্রায় ৭ শত পরিবারের জীবনে এনে দিয়েছে স্বচ্ছলতা। এ দুটি গ্রামের প্রতি বাড়িতে লেবু বাগান রয়েছে। বাড়ির উঠান আঙিনা যেখানেই ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানে লাগানো হযেছে লেবু গাছ।
শুরুতে নিজেদেরর পরিবারের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে লেবু চাষ করা হয় । অল্প খরচে বেশি উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় আস্তে আস্তে লেবু চাষের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। এর পর শুরু হয় বানিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ।
১৫/১৬ বছর আগে চাষ শুরু হওয়া গ্রাম দুটিতে এখন রীতিমত অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এ দুটি গ্রামে প্রায় ৭ শত পরিবার লেবু চাষের উপর নির্ভরশীল। এখানকার চাষীরা কলম্বো, এলাচী ও কাগজী জাতের লেবু চাষ করে থাকে। এলাচী লেবুর জাত ভাল, কিন্তু কলম্বো জাতের লেবুর ফলন বেশি হয়।
চাষীরা জানান, সাধারনত বছরে আশ্বিন মাসে লেবুর চারা বোপন করা হয়। তারপর ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ও জৈব সারসহ পানি সেচ দেওয়া হয়। চাড়া বপনের দুই বছর পর লেবু ধরা শুরু হয়। প্রতি বিঘায় লেবু চাষ করতে সবকিছু মিলে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এতে এক বিঘা জমিতে বছর প্রতি ৫০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করা হয়। একবার লেবু বাগান করলে গড়ে প্রায় ১০/১২ বছর সেখান থেকে লেবু পাওয়া যায়। সে হিসাবে উৎপাদন খরচ উঠতে প্রথম দুই বছর লেগে যায়। ৩য় বছর থেকে লাভ পাওয়া যায়।
সাধারনত বছরের ফাল্গুন, চৈত্র মাসে লেবুর মৌসুম হলেও বছরের প্রায় বারো মাসইকম বেশি লেবু তোলা হয়। উৎপাদিত এসব লেবু স্থানীয় বাজার এবং জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার কাওরান বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। সেখানে লেবু বিক্রি করা হয় পণ হিসেবে। ২০ হালিত ১ পণ। সম্প্রতি ঘিওরের এই কলম্বো লেবু বিশ্বের কয়েকটি দেশেও রফতানী হচ্ছে।
বাগান থেকে লেবু তোলার পর বাছাই করে বড়, মাঝারি, ছোট ও কেট এই চার ভাগে ভাগ করা হয়। লেবুর মৌসুমে ঢাকায় প্রতি পণ লেবু ৪শ থেকে ৫০ শত টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পণ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় পাইকাররা জানান।
বালিয়াখোড়া গ্রামের সফল লেবু চাষী বিষ্টি আইনজীবি এডভোকেট মোঃ ফরহাদ খান নয়া দিগন্তকে জানান, সোদঘাটা গ্রামে ৭/৮ বছর আগে তিনি ১২ বিঘা জমিতে লেবু বাগান করেন। চারা বোপনের প্রথম বছর ১১/১২ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপর বাগান পরিচর্যা করার জন্য বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়। এবার তিনি ৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন বলে জানান। স্বল্প সময়ে ও কম পরিশ্রমে লেবু চাষে দীর্ঘ মেয়াদী অধিক মুনাফা লাভ করা যায় বলে তিনি বেকার যুবক যুবতীদের লেবু চাষে এগিয়ে আসার অঅহবান জানান।
বালিয়াখোড়া গ্রামের সুবাস সরকার জানান, সে ৪৭ শতাংশ জমিতে কলম্ব লেবুর চাষ করে বছর প্রতি প্রায় ৬০ হাজার টাকা কওে লেবু বিক্রি কওে তার সংসারে বেশ সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
বালিয়াখোড়া গ্রামের মো: শামীম মিয়া জানান, তিনি ১০/১১ বছর আগে থেকে লেবু চাষ করেন। এবার তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে কলোম্ব জাতের লেবু চাষ করেছেন। লেবু বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা। এ বাগান থেকে ১০/১২ বছর লেবু বিক্রি করেছেন বলে জানান। ঘিওরের পাইকারী ব্যবসায়ী মো” মোন্নাফ মিয়া জানান, তিনি ৪ বছর যাবত লেবু ব্যবসার সাথে জড়িত। এবছর তিনি ৪০/৫০ হাজার টাকা কওে ১০ বিঘা জমির লেবু ক্রয় করেছেন। ঘিওর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা জানান, ঘিওরের বালিয়াখোড়া ও সোদঘাটা গ্রামের চাষীরা লেবু চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। এ দুই গ্রামের কৃষকদেও আয়ের প্রধান উৎস লেবু চাষ। লেবু চাষীদের সব রকম সহযোগিতা করে থাকেন বলে জানান। তবে সরকারী সাহায্য ও পরামর্শ এবং সহজ শর্তে ঋণ পেলে শুধু এ গ্রাম দুটি নয় পুরো ঘিওর উপজেলার চাষীরা লেবু চাষে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হবে বলে চাষীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

মন্তব্য