Gmail! | Yahoo! | Facbook

গুন্টার গ্রাস-এর কবিতাঃ যা বলতেই হবে

FacebookTwitterGoogle+Share

Gunter Grass- poemযা বলতেই হবে

কেনই বা নীরব থেকেছি এতকাল, করেছি কেবলি ইতস্তত
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার বিষয়ে, যে-খেলা প্রকাশ্যে খেলেই চলেছে সব
বিশ্বময়, যে-খেলার শেষে আমাদের যারা টিকে থাকবে সভ্যতার
শুধু পাদটীকা হয়ে?

এটা তো প্রথম আঘাতের অভিযুক্ত অধিকার, যা ধ্বংস করে দেবে
পুরোপুরি ইরানি জাতিকে, যাকে পরাভূত করতে চায় একটি উচ্চকণ্ঠ,
তার সাথে এসে মিলিত হয়েছে তার সাঙ্গোপাঙ্গরা, কারণ তার মতার
চৌহদ্দির মধ্যে তারই বিরুদ্ধে বানানো হয়ে যেতে পারে একটি অ্যাটোম বোমা।

তার পরও আমি কেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি সেই দেশের নাম নিতে, যে ইতোমধ্যে
বানিয়ে ফেলেছে পারমাণবিক বোমাÑ যদিও তা আড়াল করে রাখা হয়েছে
পৃথিবীর নজর থেকেÑ তার সেই ক্রমবর্ধমান শক্তির ওপর কারো হস্তপে নেই,
যাচাই বাছাই করার কোনো ব্যাপারও নেই,
নেই পৃথিবীর মোড়লদের তদন্ত করে দেখার মাথাব্যথাও।

এইসব বিষয়ের প্রতি সাধারণ নীরবতা, যার সামনে আমার নিজেরই নীরবতা
নুয়ায়ে দিয়েছে তার শির, আমার কাছে মনে হয়েছে একটি সমস্যা উদ্রেককারী
চাপিয়ে দেয়া মিথ্যে, যা টেনে নিয়ে চলেছে বিশ্বকে একটি শাস্তির দিকে,
ইহুদিবিরোধী মতবাদ তাতে ফুঁসে উঠতে পারে সহজেই।

কিন্তু আমার নিজের দেশই, যাকে তার অতীতের অপরাধকর্মের জন্য
প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে বারবার, সেই কিনা যখন আরেকটি সাবমেরিন
সরবরাহ করে বসে ইসরায়েলে ( যেটা কিনা স্রেফ ব্যবসায়িক লেনদেন
ছাড়া কিছু নয়, যদিও বলা হয়েছে যুদ্ধের তিপূরণস্বরূপ দেয়া হচ্ছে
ইসরায়েলকে), এমন একটি রাষ্ট্রকে, যার অঢেল মতা রয়েছে আণবিক
যুদ্ধ চালানোর এমন একটি জনপদে, যেখানে একটিও অ্যাটোম বোমা আছে
বলে প্রমাণিত হয়নি আজো, তাদের ভীতবিহ্বল অস্তিত্বই প্রমাণ করে
দেয় তা,Ñ তখন আমাকে বলতেই হবে আমি যা বলতে চাই আজ।

কিন্তু কেন আমি নীরব হয়ে আছি আজো?
তার কারণ, আমার মূল উৎস, যা মলিন হয়ে গেছে
এমন এক রঙে, যা কিছুতেই মুছে ফেলা যাবে না;
তার অর্থ হলো, আমি কখনো প্রত্যাশা করিনিÑ ইসরায়েল,
যার সাথে আমি সংশ্লিষ্ট থেকেছি সারা জীবন, তার বিরুদ্ধে
এমন একটি সত্য প্রকাশিত হয়ে যাক।

তাহলে কেন এখন, যখন আমি বৃদ্ধ, আমাকে বলতে হচ্ছে :
ইসরায়েলের পারমাণবিক শক্তি বিপন্ন করে তুলেছে
ভঙ্গুর বিশ্বশান্তিকে?
কারণ আমাকে এ বলতেই হবে
কারণ আগামীকাল আমার জন্য ফিরে না-ও আসতে পারে
কারণ একজন জার্মান হিসেবে আমি খুবই ভারাক্রান্ত
যখন একটি অপরাধের জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছি আমরা
যার দ্বারা সমস্যার সমাধান হবে না কিছুই, বরং বাড়বে।

আমি আমার নীরবতা ভেঙে বের হয়ে এসেছি
কারণ পাশ্চাত্যের ভণ্ডামি আমাকে অসুস্থ করে ফেলেছে
এবং আমি আশা করি আমার মতো আরো অনেকেই বের হয়ে আসবেন
নীরবতা ভেঙে
এবং আশা করি আমরা যারা প্রকাশ্য বিপদের মুখোমুখি, তারা দাবি জানাবেনÑ
না, কোনো শক্তি প্রয়োগ নয়
দাবি জানাবেন যে, ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই
আন্তর্জাতিক শক্তিকে অনুমতি দিক উভয় দেশের আণবিক শক্তি ও
সামর্থ্য বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপে তদন্ত করার।

বাহিরের কোনো ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতাই
ইসরায়েল কি প্যালেস্টাইনের জন্য
কিংবা তাদের জন্য যারা শত্র“তার মধ্যে বাস করে তাদের চার পাশে
এমনকি আমাদের কারো জন্য শান্তি বয়ে আনবে না, আমি নিশ্চিত।

অনুবাদ : সায়ীদ আবুবকর/ নয়া দিগন্ত -১৭/৪/১৫

মন্তব্য