Gmail! | Yahoo! | Facbook

চল্লিশে সোনালি কাবিন

FacebookTwitterGoogle+Share

al- mahmudতারেক মোরতাজা।। বাংলা সাহিত্যের বাঁক ঘুরিয়ে দেয়া কাব্যগন্থ ‘সোনালি কাবিনে’র চল্লিশ বছর পূর্তি হচ্ছে এ বছর। ১৯৭৬ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদের এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ হলে ঢাকা ও কলকাতাজুড়ে তুমুল আলোচনা-হইচই। সোনালি কাবিনের কবি বলে স্বীকৃতি পেতে থাকেন আল মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধ ফেরা কবির কলমে প্রিয়তমার কাছে সমর্পণ, মমতা, বর্ণার গভীরতা এবং লোকজ মোটিফÑ সে সময়কার কাব্য জগতে বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। শক্তিমান এক কবি-পুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন আল মাহমুদ।
১১ জুলাই ১৯৩৬ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় জন্ম নেয়া আল মাহমুদ ঢাকায় বাকস পেটরা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কবি হওয়ার জন্য। পরে যার স্পর্শ বাংলা ভাষাকে দিয়েছে ঐশ্বর্য। কাব্যচর্চার প্রথাগত বৃত্ত ভেঙে তৈরি করেছেন নতুন ব্যাঞ্জনা। বদলে দিয়েছেন গতানুগতিক কাব্যধারা।
সোনালি কাবিনের পর আল মাহমুদ সাহিত্য জগতে স্থান করে নিয়েছেন অনন্য স্থান। তারপর তার কাব্যগ্রন্থ দ্বিতীয় ভাঙ্গন কাব্য সাহিত্যে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তাকে এখন রাজনৈতিক বিকারগ্রস্তরা নানা বিবেচনায় বিচার করেন, তবে এ তো সত্যি-সাহিত্যে তার অবস্থান যেকোনো বিবেচনায় অনন্য।
সোনালি কাবিনের চল্লিশ বছর উদযাপন করতে আজ শিল্পকলা একাডেমীতে নজরুল আবৃত্তি পরিষদ আয়োজন করেছে কথামালা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান। খোদ কবি হাজির থাকবেন এ আয়োজনে।
আল মাহমুদ তার আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’তে লিখেছেনÑ ‘আমি আমার প্রথম লেখা কবিতাটি হানুকে পড়ে শোনালাম! হানু তো কবিতা শুনে প্রথম থ মেরে হাসিমুখে বসে রইল। শেষে রচনাটি আদৌ আমারই লেখা কি না এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করতে লাগল।’
তার স্মৃতির বয়ানÑ কবিতার নেশা আমাকে এমন পেয়ে বসল যে, আজকাল শোভার সঙ্গেও দেখা-সাাতের উৎসাহ কমে গেল। এমনও দিন পার হতে লাগল যে, একবারের জন্যও শোভাদের বাসায় যাওয়া হতো না। শোভা প্রথমে বিষয়টাকে তেমন আমল দিলো না। আমার কবিতার খাতা দেখে সে হেসে আর বাঁচে না। ঠাট্টা করে বলে, ‘বাবা, এ তো দেখি বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম।’ আবার কখনো বলে, ‘কি, কবি কালিদাসের খবর কী?’
শোভার খোঁচাখুঁচিগুলো নীরবে সহ্য করে যেতে লাগলাম। আর আড়ালে-আবডালে কাব্যচর্চা চলল। আমি বুঝলাম, আমার কবি হওয়ার বাসনায় শোভা দারুণভাবে হতাশ।… সে ক্রুদ্ধ বিষয়ী মানুষের মতো আমাকে উপদেশ দিলো, ‘কবিতা লিখলে ভাত জুটবে কোত্থেকে? তোমাদের সংসারের অবস্থা দেখতে পাও না?’
বাংলা সাহিত্যে নিজেকে অনিবার্য করে তোলা আল মাহমুদের সোনালি কাবিন-১-এ তিনি বলেছেন :
‘সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয় না হরিণী
যদি নাও দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনোকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিত করে চার দিকে চতুর ভ্রƒকুটি;
ভালোবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন,
ছলনা জানি না বলে আর কোনো ব্যবসা শিখিনি
দেহ দিলে দেহ পাবে দেহের অধিক মূলধন
আমার তো নেই শখি, যেই পণ্যে অলঙ্কার কিনি।
বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল
পৌরষ আবৃত করে জলপাই পাতাও থাকবে না,
তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিও সেই ফল
জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরস্পর হব চিরচেনা
পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা;
দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা- উপশিরা।’

মন্তব্য