Gmail! | Yahoo! | Facbook

ভেঙে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা

FacebookTwitterGoogle+Share

EDUসোলায়মান তুষারঃ ভেঙে পড়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। একের পর এক হরতাল আর অবরোধে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্ক। হল ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। টানা হরতালের কারণে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। ডিসেম্বরকে বিবেচনা করা হয় পরীক্ষার মাস। এ মাসে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। টানা হরতাল আর অবরোধের কারণে সবকিছুতেই এলোমেলো অবস্থা। ১লা জানুয়ারি বই উৎসব করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এলাকায় পৌঁছেনি সব বই। একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। সংঘর্ষের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। ছাত্র-শিবির ও পুলিশের সংঘর্ষের জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খালি। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বাড়ি ফিরছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা না নিয়েই ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে যে কয়টি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়েছে এবং ষান্মাসিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে প্রমোশন দেয়া হবে পরবর্তী শ্রেণীতে। ২০১৩ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৮শে নভেম্বর। কিন্তু একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বারবার পরীক্ষা পেছাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এখনও পরীক্ষা শেষ হয়নি। সেই পরীক্ষা শেষ হয় ৬ই ডিসেম্বর। এ পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। এর আগে ৪ঠা নভেম্বর শুরু হয়ে সদ্য শেষ হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেটের (জেএসসি) ১১টি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে ৬টিই পেছাতে হয়েছে। হরতাল-অবরোধের কারণে উত্তরপত্র সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় সঠিক সময়ে ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১লা ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ হয়নি। ২৭শে অক্টোবর থেকে টানা হরতাল এবং অবরোধ করে আসছে ১৮ দলীয় জোট। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এসএসসি (ভোকেশনাল), মাদরাসার ইবতেদায়ি, দাখিল ও (ভোকেশনাল) স্তরে সারাদেশে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৭২। এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় শিক্ষার্থী প্রায় ১৪ লাখ। ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ লাখ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ লাখসহ ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ক্লাস, পরীক্ষা নিয়ে এখন চরম দুর্ভোগের শিকার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা একেবারেই লণ্ডভণ্ড। ১৮ দলীয় জোটের অবরোধের কারণে পেছাতে হয়েছে ২৬, ২৭ ও ২৮শে নভেম্বরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর পরীক্ষা। স্থগিত করা হয়েছে স্কুল ও মাদরাসায় অনুষ্ঠিত চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও। ২০শে নভেম্বর থেকে শুরু হয় দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। আগের সময়সূচি অনুযায়ী ২৮শে নভেম্বর পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় ৬ই ডিসেম্বর। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও পিছিয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ওয়াইডব্লিইসিএ, মতিঝিল সরকারি বালক ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা শেষ হয়নি। এ অবস্থায় তারা বিপাকে পড়েছেন। আগামী শিক্ষাবর্ষ চলে এসেছে। ১লা জানুয়ারি বই উৎসব। এর আগে তাদের ফল ঘোষণা করতে হবে। এ অবস্থায় বেশিরভাগ স্কুল ২০শে ডিসেম্বরের পর পরীক্ষা না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যে কয়টি পরীক্ষা হয়েছে তার ভিত্তিতেই ফল ঘোষণা করা হবে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে আমরা পরীক্ষা নিতে পারছি না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। ২০শে ডিসেম্বরের পর আমরা আর কোন পরীক্ষা নেব না। এ ছাড়া বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি। নতুন মাসের শুরু থেকেই  অবরোধ। নতুন মাসে কোন পরীক্ষা শুরু করাই সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তনে দীর্ঘ হচ্ছে সেশনজট। অবরোধের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২ সালের অনার্স পার্ট-১, ২০১১ সালের অনার্স পার্ট-৪, বিবিএ পার্ট-১, ২, ৩, সিইসি, এমবিএ প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচি বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিগ্রি পরীক্ষার ফরম পূরণ হলেও এখন পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছে না। অবরোধের কারণে ২০১২ সালের দ্বিতীয় বর্ষ অনার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সীমা বাড়ানো হয় ৩০শে নভেম্বরের পরিবর্তে ৮ই ডিসেম্বর। একটি পরীক্ষার পর ফল প্রকাশ ও আরেকটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান বলেন, আমরা আগের পরীক্ষাই নিতে পারছি না। এ অবস্থায় নতুন করে কোন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিরোধী দলের অগণতান্ত্রিক কর্মসূচির কারণে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথে। আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করেছি অন্তত পরীক্ষার সময় ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দিতে। শিক্ষাজীবন ধ্বংসকারী এ ধরনের হিংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি অত্যন্ত নিন্দনীয়। হরতালের কারণে  ২৮শে অক্টোবরের ইংলিশ মিডিয়ার সিআইই ‘ও’ লেভের বায়োলজি ২২ (৫০৯০/২২) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ক্লাস-পরীক্ষা নেই। এ অবস্থায় অটো প্রমোশনের কথা শোনা যাচ্ছে। মানব জমিন

মন্তব্য