Gmail! | Yahoo! | Facbook

ঢাবি হলের স্টোর রুম ছাত্রলীগের মিনি কয়েদখানা

FacebookTwitterGoogle+Share

du logoঢাবি, ১৪ ডিসেম্বরঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের স্টোর রুম। দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট, প্রস্থ ১০ ফুট। হলের খেলাধুলার সরঞ্জাম, শিক্ষার্থীদের বাইক, সাইকেল, ঘাস কাটারযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে কক্ষটি পরিপূর্ণ থাকে।

হলের স্টোর রুম হলেও বর্তমানে রুমটি হল ছাত্রলীগের ‘মিনি কয়েদখানা’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হলের শিক্ষার্থী যারা রাজনৈতিক ভিন্ন মত সমর্থন করেন অথবা যাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের মনোমালিন্য রয়েছে তাদের স্থান হয় এই কয়েদখানায়।

তবে কয়েদখানায় রাখার পূর্বে তাদের উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। এমনকি বহিরাগতদের ধরে এনে হল ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাদের এই কথিত কয়েদখানায় আটকে রাখে চাঁদা আদায় করে। এদিকে এই কয়েদখানা থেকে আটকৃতদের মুক্ত করতে অসহায় প্রশাসন। অনুমতি দরকার হয় হল ছাত্রলীগের এসব নেতাদের।

সর্বশেষ গত ১১ই ডিসেম্বর দেলোয়ার নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে কয়েদখানায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা আটকিয়ে রাখে ছাত্রলীগের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তার মুখে দাড়ি ছিল।

দেলোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবসিক শিক্ষার্থী দেলোয়ার ওই দিন পড়ার জন্য এসএম হলের পড়ার কক্ষে আসে। সেখান থেকেই তাকে আটক করে দিদার। এরপর মারধর করে তাকে কয়েদখানায় আটকিয়ে রাখা হয়।

হল প্রভোস্টকে বিষয়টি জানালে প্রক্টরকে বিষয়টি অভিহিত করেন তিনি। প্রক্টর ছাত্রলীগ নেতার অনুমতি ব্যতিত তাকে ছাড়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন। পরে দিদারের সঙ্গে কথা বলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ তাকে পুলিশে দেন।

এছাড়া গত ১নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় এক ভর্তিচ্ছুকে আটক করে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এক ছাত্রলীগ কর্মী। জানা যায়, ওই রুমেই তাকে দুইদিন আটক করে রাখা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও হলে ছাত্রদল-শিবির সন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে এনে এই রুমে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। হল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলেও কোনো পদক্ষেণ নেয় না।

এ বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী বলেন, হলের বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম এই রুমে রাখা হয়। তবে ছাত্র নির্যাতনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ ভুঁঞয়াকে এ বিষয়ে বার বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উৎসঃ শীর্ষ নিউজ

মন্তব্য