Gmail! | Yahoo! | Facbook

রক্তাক্ত কোম্পানীগঞ্জ: গুলিতে নিহত ৭

FacebookTwitterGoogle+Share

kompanigonjনোয়াখালী, ১৪ ডিসেম্বর: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার বিকাল চারটা থেকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৬টি সরকারি অফিস ভাঙচুর ও তাতে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় অন্তত সাত জন নিহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৩০ জন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের মধ্যে তিন পুলিশ রয়েছে।

নিহতরা সবাই জামায়াত-শিবিরকর্মী ও সাথী বলে জানা গেছে। এরা হচ্ছেন-সাইফুল ইসলাম (সাথী), আব্দুস সাত্তার (কর্মী), মতিউল ইসলাম (কর্মী), নূর হোসেন রাসেল (জামায়াত কর্মী), রায়হান (সাথী), মিসু (জামায়াত কর্মী) ও জিয়াউল হক জিয়া (দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক)। তবে পুলিশ তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সন্ধ্যায় গোটা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে।

গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল রাসেদ, রাজু ও বিশেষ আনসার বশির। গুলিবিদ্ধ জামায়াত শিবির কর্মীরা হলো, সোহাগ (২০), ওসমান গণি (১৬), আবদুল্লাহ আল মামুন (২০) সহ অন্তত ৩০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বসুরহাট মডেল স্কুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা।
পরে মিছিলটি বসুরহাট থানা সংলগ্ন হাসপাতাল সড়কের উপজেলা মসজিদের সামনে গেলে পুলিশ মিছিলে বাঁধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হলে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই দুই শিবির কর্মী নিহত হয়। পরে বাকীরা নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়েছে তিন পুলিশ কনস্টেবল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও গুলি করলে জামায়াত শিবিরের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে ক্ষিপ্ত শিবির কর্মীরা বসুরহাট কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস, উপজেলা সেটেলম্যান্ট অফিস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিস, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর জন্য এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে দুইটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। রাস্তায় আগুন দিয়ে ব্যারিকেট দেয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিস সরকারি অফিসগুলো রক্ষা করতে পারেনি।

এছাড়াও সন্ধ্যার পর জামায়াত সমর্থিত বসুরহাট মডেল স্কুল এন্ড কেজিতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুর রহমান জানান, পুলিশ উপজেলা জামে মসজিদের পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে।
জেলা শহর শিবিরের সভাপতি নেয়ামত উল্ল্যাহ শাকের জানান, পুলিশের গুলিতে জামায়াত শিবিরের সাতজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তবে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সূত্রে জানা যায়। সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

মন্তব্য