Gmail! | Yahoo! | Facbook

আমাদের স্বপ্ন ভাঙছেন, কী সাহস আপনাদের!

FacebookTwitterGoogle+Share

জাতিসংঘের ভাষণে বিশ্বনেতাদের ওপর অগ্নিকন্যার ক্ষোভ

TOPSHOT-UN-CLIMATE-ENVIRONMENT২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ঃ মেয়েটার বয়স মাত্র ১৬ বছর। কিন্তু এই মেয়েটাই ঝড় বইয়ে দিল জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে। চোখে-মুখে আত্মপ্রত্যয়ের ছাপ স্পষ্ট। সঙ্গে রয়েছে তীব্র রাগ। রাষ্ট্রনায়কদের বিরুদ্ধে গলা উঁচু করে বলল, ‘হাউ ডেয়ার ইউ’।

গলে যাচ্ছে বরফ। ক্রমশ বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জল। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে গ্রিনহাউস গ্যাসের লাগামছাড়া বৃদ্ধি। দূষণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। তাই পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছিল এই সুইডিশ তরুণী। শুরুতে একা ছিল গ্রেটা।

আজ বিশ্বের দরবারে সে পরিচিত তার কাজের জন্য। তার অনুপ্রেরণাতেই ২০ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর ৪০০ শহরে পালিত হয়েছে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ বা ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ‘ক্লাইমেট সামিটে’ যোগ দিয়েছিল গ্রেটা।

সেখানেই সুইডিশ এ কিশোরীকে একদম অন্যরূপে দেখল বিশ্ববাসী। বিশ্বনেতাদের সামনে বসেই তাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ল গ্রেটা। পাশে বসে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেসব শুনছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরিস।

গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন রোধে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে তার প্রজন্মের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করা, সেই প্রশ্ন ফের একবার তুলে দিলেন গ্রেটা থানবার্গ। প্রশাসনের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে সাফ জানাল, ‘আমরা আপনাদের লক্ষ করছি।’

পড়াশোনা থেকে আপাতত এক বছরের জন্য বিরতি নিয়েছে গ্রেটা। আপ্রাণ চেষ্টা করছে পরিবেশকে বাঁচানোর। তবে এ দিন খানিকটা রেগে গিয়েই গ্রেটা বলে, ‘সবকিছু ভুল হচ্ছে। আমার এখানে থাকার কথাই নয়। বরং সাগরের ওপারে নিজের স্কুলে থাকা উচিত।’

এর আগেও পৃথিবীর সব রাষ্ট্রনায়কের দিকে আঙুল তুলেছিল গ্রেটা।

জোরগলায় সে বলেছিল, ‘আমরা এখনও অনেকদিন বাঁচব। কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? দূষণ আর উষ্ণায়নে পৃথিবীর মৃত্যু ডেকে আনছ তোমরা। তোমাদের মতো ‘পলিসি মেকারদের’ জন্যই এই দুর্গতি আমাদের ছোটদের। আমাদের ভোটে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি। তোমরা জিতেছ। তাই তোমাদেরই ব্যবস্থা করতে হবে। করতেই হবে।’

এরপরই সেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে গ্রেটা থানবার্গ। শান্ত গলায় বলে, ‘আশা নিয়ে তোমরা আমাদের কাছে আসো। কী সাহস তোমাদের। হাউ ডেয়ার ইউ। তোমাদের ফাঁকা ভাষণ দিয়ে আমাদের শৈশবের সব স্বপন ভেঙে চুরমার করে দাও। মানুষ মারা যাচ্ছে। গোটা পরিবেশ রসাতলে যাচ্ছে।’

পাশাপাশি অবশ্য নিজেকে ভাগ্যবান বলেও দাবি করে গ্রেটা। কারণ সঠিক সময়ে সব ছলচাতুরী বুঝে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে সে। তবে এখানেই শেষ নয়। ক্ষুব্ধ গ্রেটা আরও বলে, ‘আমরা একটা ব্যাপক ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আর আপনারা টাকাপয়সা এবং সুন্দর আর্থিক বৃদ্ধির কথা বলছেন, আপনাদের কী সাহস!’

গ্রেটার কথায়, ‘আমি রাগ করি বা আমার খারাপ লাগে এটা আসল বিষয় নয়। তবে আমি এটা মানতে নারাজ যে আপনারা সত্যিই পরিস্থিতিটা বুঝতে চান এবং পারেন, কিন্তু তার পরেই প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হন। এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারি না।’ এরপরই আবার বলে, ‘আপনারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

সম্মেলন শেষ হতেই আগুনকন্যার ভেংচি কাটলেন ট্রাম্প : ফের চিরচেনা সেই খলনায়কসূলভ স্বভাবে আবির্ভূত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাতিসংঘে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে সোমবার বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয়ার পর পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সাহসী কিশোরী গ্রেটা থানবার্গকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করলেন তিনি। এমনকি তার প্রতি ভেংচিও কেটেছেন।

এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তাকে (গ্রেটাকে) দেখে একটা হাসিখুশি বালিকা বলেই মনে হয়। তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। খুব সুন্দর।’

মন্তব্য