Gmail! | Yahoo! | Facbook

দেশে হত্যা, ধর্ষণ, দুর্নীতির মহামারি চলছেঃ ছাত্র মজলিসের সম্মেলনে মাওলানা ইসহাক

FacebookTwitterGoogle+Share

icmঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ঃ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, দেশে হত্যা, ধর্ষণ, দুর্নীতির মহামারি চলছে। ঘর থেকে ধরে নিয়ে ‘বন্দুক যুদ্ধে নিহত’ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। গুম, খুন লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। পার্শবর্তী দেশে মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে। গরুর গোস্ত খাওয়ার অযুহাতে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এসব জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান’ না বলার কারণে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। কাশ্মীরে নির্যাতন চলছে। এ অবস্থায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে আমাদের সরকার কানে আঙ্গুল দিয়ে রয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঈমানী জজবায় গর্জে উঠতে হবে। জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আজ ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর কাজী বশির মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল মনসুরুল আলম মনসুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসৈর মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়ধ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন, ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল জলিল, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফা, খেলাফত মজলিসরে যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হালিম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, মাওলানা আজীজুল হক, প্রাক্তন সেক্রেটারী জেনারেল সেলিম হোসাইন, হাফেজ খালেদ আহমদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন, ইসলামী শাসননতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম। প্রস্তাবনা পেশ করেন ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসাইন, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ শাহিন, কেন্দ্রীয় অফিস ও প্রচার সম্পাদক বিলাল আহমদ চৌধুরী। ছাত্র মজলিসের এ সদস্য সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা জেলার সাবেক সভাপতি শহীদ সাইফুল ইসলামের গর্বিত পিতা আবদুল মান্নান।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসনে মিয়াজী, এডভোকেট মিজানুর রহমান, মাওলানা নূরুজ্জামান খান, হাফেজ মাওলানা জিন্নত আলী, মাওলানা আহমদ বিলাল, হাজী নূর হোসেন, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ রমজান আলী, মুহাম্মদ আবদুল গাফফার, তাইফুর রহমান, শাব্বির আহমদ, রায়হান আলী প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, নিশি রাতের ভোট চোর সরকারের কারণে দেশে সর্বত্র অন্যায়, অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানী ব্যাভিচার চলছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় একটি সর্বত্মক পরিবর্তন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সে পরিবর্তষ সাধনে ছাত্র মজলিসকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে একটি অর্থবহ পরিবর্তনের জন্যে কাজ করতে হবে।
ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস হোসাইন বলেন, এদশের যুবসমাজের চরিত্র ধ্বংস করার জন্যে ননামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের উপর বিষাক্ত নি:শ্বাস ফেলছে। সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থার মোড়কে নাস্তিক্যবাদী ডারইউনের বিবর্তনবাদ শিকানো হচ্ছে এদশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এ সব ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোল গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষ একটি বিশাল র‌্যালী গুলিস্তান কাজী বশিল মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট গুরে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে এসে শেষ হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের দুই দিনব্যাপী এ সদস্য সম্মেলন আগামীকাল শাহজাহানপুরের মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে সমাপ্ত হবে।

মন্তব্য