Gmail! | Yahoo! | Facbook

ড্রোন, ক্রুজ ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদির ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

FacebookTwitterGoogle+Share
Saudi_oil_Field _Attack১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ঃ বিমান প্রতিরক্ষায় পশ্চিমা সামরিক যন্ত্রপাতির পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেও কম দামি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব।

শনিবার এ ধরনের স্বল্প খরচের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায়ই দেশটির বিশাল তেল শিল্প আংশিক পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, প্রতিবেশী ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে তেল শিল্পক্ষেত্রগুলোতে বারবার হামলা সত্বেও সৌদি আরব এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় কতোটা অপ্রস্তুত তা ওই দিনের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে।

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ হামলার পেছনে ইরান ছিল বলে তাদের বিশ্বাস।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল থেকে চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে। হামলার ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ধরনের অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তারা বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরোধীরাই হামলাটি চালিয়েছে। ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এককভাবে এ হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতায় ইরান অনেক এগিয়ে আছে। তারা সৌদি আরবের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিতে পারবে বলে ভাষ্য থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সিআইএসএস এর; এক্ষেত্রে ইরানের বিশাল আয়তন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের সমর্থিত বাহিনীগুলোর শক্তিমত্তাও উল্লেখ করেছে তারা।

কিন্তু এর চেয়ে অনেক দুর্বল হামলাও সৌদি আরবের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর, অয়েল পাম্পিং স্টেশন ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রে হুতিদের দাবি করা সাম্প্রতিক সফল হামলাগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে।

“আমরা উন্মুক্ত। কোনো বাস্তব স্থাপনার জন্যই কোনো বাস্তব সুরক্ষা নেই,” বলেছেন সৌদি এক সূত্র।

 

ইয়েমেনের অজ্ঞাত এক স্থানে হুতিদের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী। ছবি: হুতিদের গণমাধ্যম দপ্তর/রয়টার্স

ইয়েমেনের অজ্ঞাত এক স্থানে হুতিদের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী। ছবি: হুতিদের গণমাধ্যম দপ্তর/রয়টার্স

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দুটি প্লান্টে ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলাটি ১৯৯০-৯১ সালে উপসাগরীয় সঙ্কটের সময় সাদ্দাম হুসেন কর্তৃক কুয়েতের তেল কূপগুলো জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ওই অঞ্চলের তেল স্থাপনায় চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। 

আরামকো মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে তারা।

প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ইরানি বলে ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদ, কিন্তু হামলাটি ঠিক কোন স্থান থেকে চালানো হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি।

হামলায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছিল, কিন্তু তিন মার্কিন কর্মকর্তা হামলায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এতে প্রথমে যা ভাবা হয়েছিল হামলাটি তার চেয়েও উঁচু মাত্রার ও আরও নিখুঁত ছিলে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

“এই হামলাটি সৌদি আরবের জন্য ৯/১১ হামলার মতো, এটি খেলা পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো,” বলেছেন পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

“কোথায় সেই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মার্কিন অস্ত্র, রাষ্ট্র ও এর তেল স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য যার পেছনে আমরা শত শত কোটি ডলার খরচ করেছি? তারা যদি এটি (হামলা) এত নিখুঁতভাবে করতে পারে তাহলে তারা লবনমুক্তকরণ প্লান্ট ও অন্যান্য লক্ষ্যেও আঘাত হানতে পারবে,” বলেছেন তিনি।

সৌদি আরবের প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতিতে বহুদিন ধরেই দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্যাট্রিয়ট পদ্ধতি মোতায়েন আছে। প্রধান প্রধান শহর ও স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্যই সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানী রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মোকাবেলা করেছে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পদ্ধতিটি, কিন্তু ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আরও ধীরগতিতে অল্প উচ্চতা দিয়ে চলায় প্যাট্রিয়টের পক্ষে এগুলোকে যথসময়ে শনাক্ত করে ধ্বংস করা কঠিন।

“ড্রোন সৌদি আরবের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। রাডারের পাল্লার নিচ দিয়ে উড়ায় ও ইয়েমেন-ইরাকের সঙ্গে বিশাল সীমান্ত থাকায় রাষ্ট্রটি বেশ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে,” বলেছেন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মন্তব্য