Gmail! | Yahoo! | Facbook

যুক্তরাষ্ট্রে দু’দফা বন্দুক হামলায় নিহত ২৯ জন

FacebookTwitterGoogle+Share

dayton-shooting৪ আগস্ট ২০১৯ঃ যুক্তরাষ্ট্রে দু’দফা হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৯ জন। প্রথম হামলা হয় শনিবার টেক্সাসে ওয়ালমার্ট স্টোরে। সেখানে এক অস্ত্রধারী শ্বেতাঙ্গ যুবক গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ওহাইও রাজ্যে একটি বার-এর বাইরে  আরেক হামলাকারি গুলি করে হত্যা করে কমপক্ষে ৯ জনকে। এ দুটি হামলায় আহত হয়েছে অনেক মানুষ। টেক্সাসে এল পাসো শহরে ওয়ালমার্টে এলোপাতাড়ি গুলির পর ওই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ইতিহাসে একে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে আখ্যায়িত করেছেন ওই রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে দু’এক মাইল দূরে সিয়েলো ভিস্তা মলের কাছে ওয়ালমার্টের একটি স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ২১ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার মতে তার নাম প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস। তার বাড়ি ডালাসের অ্যালেন শহরে। এই শহরটি এল পাসো থেকে প্রায় ৬৫০ মাইল পূর্বে। হামলার সময়ে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায় একজন অস্ত্রধারীকে। তা যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির কানে সুরক্ষামূলক ‘ইয়ার প্রটেকটর’ পরে আছে। তার হাতে ধরা অ্যাসল্ট রাইফেল। ট্রাম্প এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, দেশের সবার সঙ্গে এই ঘৃণাযুক্ত হামলার নিন্দা জানাচ্ছি আমি। নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো কারণ বা অজুহাত থাকতে পারে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন, বিবিসি।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর টুইটে বলেছেন, নিহতের মধ্যে রয়েছেন তার দেশের তিন নাগরিক। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড টুইট করে জানিয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের ৬ নাগরিক। সিএনএনের রিপোর্টে হামলাকারীকে ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে তাকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারীদের দুটি সূত্র ও রাজ্য সরকারের একটি সূত্র। কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার আগে অনলাইনে পোস্ট করা কিছু পোস্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখছে। তাতে বোঝা যেতে পারে হামলার উদ্দেশ্য কি। এল পাসো পুলিশ প্রধান গ্রেগ অ্যালেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবারের এ ঘটনায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেগ অ্যালেন বলেছেন, হতাহতরা বিভিন্ন বয়সের। তিনি পরিস্থিতিতে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলা হয়েছে, ডালাসের ২১ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গী যুবক এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনাটিকে বড় রকমের ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পেছনে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ রয়েছে কিনা তা সুনিশ্চিত হওয়ার আগে আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এস পাসোতে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ এমারসন বুই। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একটি সূত্র বলেছেন, শনিবার দিনশেষে এফবিআই গণহত্যার বিষয়ে আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়াতে খাদ্য বিষয়ক এক উৎসবে গুলি করে এক টিনেজ হত্যা করে তিন জনকে। তার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে টেক্সাসের এই হামলাকে ৮ম সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  বিবিসি লিখেছে, হামলার কয়েক দিন আগে অনলাইনে একটি ফোরামে একটি শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি লিখেছে টেক্সাসে হামলাকারী। এ বিষয়টি এখন পুলিশ ও এফবিআই তদন্ত করছে। ওই ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় হিস্প্যানিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে গুলি করে কমপক্ষে ৯ জনকে হত্যা করেছে এক ঘাতক। হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ বিষয়ে প্রথম খবর পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়, ওই রাজ্যের অরিগন এলাকায় ডেটনে একটি বারের বাইরে গুলি চালায় হামলাকারী। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬ জন। হতাহতদের নেয়া হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। ডেটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক টুইটে বলেছে, যেখানে গুলি হয়েছে তার একেবারে কাছেই ছিল আমাদের অফিসাররা। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পেরেছেন। পুলিশের সহকারী প্রধান ম্যাট কারপার সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের কর্মকর্তারা হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, আমাদের সদস্যরা এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুপ্রশিক্ষিত। সৌভাগ্য যে, ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। তা না হলে হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারতো। তবে হামলাকারী সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায় নি। মানব জমিন

মন্তব্য