Gmail! | Yahoo! | Facbook

মুরসীকে শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন সংগঠনের শোক

FacebookTwitterGoogle+Share

morsi drঢাকা, ১৯ জুন ২০১৯ঃ মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। দীর্ঘ দিন কারা নির্যাতিত মুরসি আদালত চত্বরে মৃত্যুবরণ করায় নেতারা তাকে শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

হেফাজতে ইসলামঃ মিশরের সাবেক প্ৰেসিডেন্ট ডক্টর হাফেজ মুহাম্মদ মুরসীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্ৰকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সংবাদ মাধ্যমে প্ৰেরিত এক শোক বাৰ্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মুহাম্মাদ মুরসী একজন হাফেজে কুরআন প্ৰেসিডেন্ট ছিলেন, কুরআন হাদীস সম্পৰ্কে ছিল তাঁর যতেষ্ট জ্ঞান এবং তিনি ওলামায়ে কেরামকে ইজ্জত সম্মান করতেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ছিলেন খুব গুরুত্ববান, এমন খোদাভীরু একজন প্ৰেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, মিশরের সৰ্বস্থরের জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মুহাম্মদ মুরসী একজন প্ৰেসিডেন্ট হওয়া সত্বেও সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন, উচ্চ বিলাসিতা বলতে তাঁর মধ্যে কিছুই ছিলনা, পরিবার পরিজন সহ রাজধানী কায়রোতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।‘মুহাম্মদ মুরসী শান্তিময় বিশ্ব গড়তে কুরআন সুন্নাহর সংবিধানে রাষ্ট্ৰপরিচালনা, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্ৰতিষ্ঠা এবং সন্ত্ৰাস দমনে ইসলামী জিহাদের বিশ্বাসী হকের উপর অটল অবিচল একজন আপোষহীন নেতা ছিলেন, অন্যায় অবিচার,জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন, একজন আমানতদার প্ৰেসিডেন্ট হিসেবে মুহাম্মদ মুরসী মিশরের সকল মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন।’

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মিসর একটি গুরুত্বপূৰ্ণ দেশ, মিসর বিজয়ী ছিলেন রাসুল (সা.) এর সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আস (রাদি.)। মুহাম্মদ মুরসী সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিধন্য সেই মিশরে আল্লাহর হুকুমত প্ৰতিষ্ঠার লক্ষে জুলুম ও তাগুতের বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্ৰাম করেছেন, তিনি হক প্ৰতিষ্ঠায় বাতিলের অনেক জুলুম নিৰ্যাতন সহ্য করেছেন, কারা প্ৰকৌষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তাকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। ‘মুহাম্মদ মুরসী একজন দেশপ্ৰেমিক প্ৰেসিডেন্ট ছিলেন, শত জুলুম নিৰ্যাতন সত্বেও স্বদেশ ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি, মিশরের লাখ লাখ মুসলমানের প্ৰাণের নেতা ছিলেন হাফেজ মুহাম্মদ মুরসী। শুধু মিসরবাসী নয় পুরো মুসলিম উম্মাহ মুহাম্মদ মুরসীকে তাঁর কৰ্মগুণে চিরকাল স্মরণ রাখবে,মিশরবাসী তাদের প্ৰিয় ও ত্যাগী নেতা মুরসীর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, হাজার-হাজার মানুষ শাহাদাৎ বরণ করেছে, ইতিহাসের পাতায় এসব স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন প্ৰেসিডেন্ট মুরসী। বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্ৰাম করে জালিমের কারা প্ৰকৌষ্ঠে মাজলুম অবস্থায় ইন্তেকাল করে মুহাম্মদ মুরসী বিশ্ব মুসলিম যুবকদেরকে এ বাৰ্তা দিয়েছেন যে,হকের ব্যপারে বাতিলের সাথে কোন আপোষ নেই,নিজের প্ৰাণের বিণিময়ে হলেও সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরণ বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্ৰাম করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত কায়েম করতে হবে।’ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন,এবং তাঁর পরিবারকে সবরে জামিলের তাওফীক দান করুন, আমিন।

জামায়াত : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে এক যুক্ত শোকবাণীতে বলেন, মিসরের ইতিহাসে প্রথমবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাবেক জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি দেশের একটি আদালতের এজলাসে রহস্যজনকভাবে ইন্তেকাল করার দুঃখজনক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তার রহস্যজনকভাবে ইন্তেকালে আমরা একজন স্বজন হারানোর গভীর বেদনা অনুভব করছি। ড. মুরসির রহস্যজনকভাবে ইন্তেকালে গোটা মুসলিম উম্মাহ গভীরভাবে শোকাভিভূত ও মর্মাহত। মিসরের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ড. মুরসিকে ২০১৩ সালে জে. আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অবৈধভাবে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেন। অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রায় ৬ বছর অবৈধভাবে কারাগারে আটক রেখে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। সেই থেকেই মিসরের জনগণ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাকর্মীদের ওপর চলছে হত্যা, জুলুম-নির্যাতন। এছাড়া মুসলিম ব্রাদারহুডের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। জে. সিসি মিসর থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও ন্যায়বিচার নির্বাসনে পাঠিয়ে গোটা দেশকে একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত করেছেন। সেখানে কারো জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। জে. সিসির সরকারের চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ড. মুরসি আদালতের এজলাসে রহস্যজনকভাবে ইন্তেকাল করেছেন। এ ঘটনা মিসর সরকারের জুলুম-নির্যাতনের জ্বলন্ত উদাহরণ। ইসলামি আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার এ আত্মত্যাগ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ ও সব মুক্তিকামী জনতা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
আল্লাহ তায়ালা ড. মুরসির জীবনের সব নেক আমল কবুল করে তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দান করুন। আমরা তার শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, দলীয় সহকর্মী ও মিসরের শোকসন্তপ্ত জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করছি আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।

খেলাফত মজলিস : মিসরের স্বৈরাচারী জালিমশাহী সিসির হাতে বন্দী মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইসলামি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা হাফেজ ড. মোহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মিসরের অবিসংবাদিত নেতা শহীদ মোহাম্মদ মুরসি আমৃত্যু সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে এক মহান নেতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আদর্শের ওপর অবিচল ছিলেন। স্বৈরশাসকের জুলুম নির্যাতন ভয়ভীতি কোনো কিছুই তাকে সত্যের পথ থেকে এক চুল পরিমাণ নড়াতে পারেনি। তিনি মিসরের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কুরআন, সুন্নাহ তথা ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে জাতিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইহুদিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও কায়েমি স্বার্থবাদীদের ক্রীড়নক তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে এক বছরের মাথায় অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেফতার করে বছরের পর বছর কারারুদ্ধ করে রাখে। কারাগারে জুলুম নির্যাতন আর বিচারের নামে অবিচারের শিকার হয়ে বিচারকক্ষেই শাহাদত বরণ করেন একজন হাফেজে কুরআন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। শহীদ প্রেসিডেন্ট মুরসির মতো মিসরের হাজার হাজার জনতাকে গ্রেফতার নির্যাতন ফাঁসি দিয়ে জঘন্য ও ভয়াবহ নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন জালিমশাহী সিসি ও তাদের দোসররা একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু সত্য, ন্যায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল এবং আপসহীন শহীদ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও তার সাথীরা জুলুম নির্যাতন সহ্য করে, শাহাদত বরণ করে ইতিহাসের মহানায়ক হিসবে বেঁচে থাকবেন অনাগত কাল। তাদের এ আত্মত্যাগ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তির পথ দেখাবে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় শহীদ ড. মোহাম্মদ মুরসির রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে আশা করেন প্রেসিডেন্ট মুরসির আত্মত্যাগের বদৌলতে মিসরের জনগণ শিগগিরই বর্তমান স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্ত হবে এবং মুক্তিকামী নির্যাতিত জনতা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।
খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াযী, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন এক যুক্ত বিবৃতিতে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রেসিডেন্ট মুরসি ছিলেন ইসলামের পক্ষে এক অকুতোভয় বীর সিপাহসালার। ইসলামের শত্রুরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। প্রেসিডেন্ট মুরসির ইন্তেকালে বিশ্ব একজন অবিসংবাদিত মুসলিম নেতাকে হারাল। ইসলামের জন্য তার সাহসী ভূমিকা, অসামান্য ত্যাগ ও কুরবানি বিশ্ব ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের জন্য চীরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ শহীদ হাফেজ ড. মোহাম্মদ মুরসির রূহের মাগফিরাত কামনা ও মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে জান্নাতে তার উঁচু মাকাক কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
ইসলামি আন্দোলন : মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম। এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, মোহাম্মাদ মুরসি একজন হাফেজে কুরআন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, খোদাভীরু একজন প্রেসিডেন্টের ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। মুরসির ইন্তেকালে বিশ্ববাসী একজন অবিসাংবাদিত নেতাকে হারাল। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্ব¡পূর্ণ নথি পাচারের যে অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল, তা ছিল একটি অজুহাত মাত্র। মোহাম্মদ মুরসি শান্তিময় বিশ্ব গড়তে কুরআন সুন্নাহর সংবিধানে রাষ্ট্রের পরিচালনা, আল্লাহর জমিনে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস দমনে ইসলামি জিহাদের বিশ্বাসী হকের ওপর অটল অবিচল একজন আপসহীন নেতা ছিলেন, অন্যায় অবিচার, জুলুম আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সদা তিনি সোচ্চার ছিলেন বলেই তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ মোহাম্মদ মুরসির শোকাহত পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুড নেতাকর্মীর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

জমিয়তঃ একমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী রাষ্ট্রপতি মুরসীরইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। ১৮ জুন এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, মুরসীরইন্তিকাল স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটা ছিল একটি শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই লক্ষ্যে জেলখানায় সেরকম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিলো। নির্জন কারাবাসে তাঁকে অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের অসুখ ছিল। কিন্তু কারাগারে এসব রোগের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তরফ থেকে বার বার যথাযথ চিকিৎসার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সিসি’র সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।

শোকবার্তায় আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জিগির তুলে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সুদানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বহু মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রকে হয় ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে, নতুবা চরম গোলযোগ ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু মুহাম্মদ মুরসী তো পশ্চিমা উস্কানীতে সৃষ্ট কথিত আরব বসন্তের ঢেউয়ে হোসনী মুবারকের উৎখাতের পর পশ্চিমা গণতন্ত্রের সকল নিয়ম অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই ক্ষমতায় বসেছিলেন। মুহাম্মদ মুরসী মিশরের ইতিহাসে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির স্বচ্ছ নির্বাচনে বিজয়ী ‘একমাত্র’ নেতা। হোসনি মোবারকের মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মোহামদ মুরসী পার্লামেন্টে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন। তাছাড়া তিনি শিক্ষা জীবনে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়েছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ একাডেমিক শিক্ষা পেয়ে পিএইচডি লাভ করেছিলেন। তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত নেতা, যা বিরল।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের সকল নিয়ম অনুসরণ করে ক্ষমতায় আসার পরও পশ্চিম তাঁকে মিশরের নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। কারণ, তিনি তৃতীয় বিশ্বের সেই সব রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদি ছলাকলা, কৌশল ও প্রতারণা সম্পর্কে ছিলেন অভিজ্ঞ ও সচেতন। পাশাপাশি তাঁর ছিল ইসলামের প্রতি গভীর আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ। ক্ষমতায় বসার পর তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণের সংকল্প করেছিলেন। যার ফলে মুরসীকে নির্মূল করা ছিল সুস্পষ্ট পাশ্চাত্য নীতি। ইসলামের পক্ষে মুরসীরসুস্পষ্ট অবস্থানের ফলশ্রুতিতেই নির্বাচিত হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তাঁকে উৎখাতের জন্য পশ্চিমের পুঁজিবাদ, জায়নবাদসহ আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র মিলে মিশরীয় সেনাবাহীর সাথে সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করতে সমর্থন দিয়েছিলো। মুরসীর কৌশলী হত্যাকাণ্ড সারা দুনিয়ার মজলুম মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশাল ক্ষতি। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়। পশ্চিমারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির যে স্লোগান দিয়ে একের পর এক মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের এই স্লোগান যে স্রেফ ভণ্ডামি, মুরসীকে উৎখাত ও তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে হত্যায় পশ্চিমা সায় ও নীরবতায় আরো স্পষ্ট হয়েছে। মূলত: পশ্চিমা পুঁজিবাদিরা ইসলাম উৎখাতের লড়াই জারি রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে রূপ দেওয়া, নানা ছলছুতা কূটচালের গ্যাড়াকলে ফেলে মুসলিম অধ্যুষিত এক একটি দেশকে ধ্বংস করা, গোলযোগের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং সর্বশেষ মুরসীর পরিণতির অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী রাজনীতিবিদগণের চুলচেরা বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা ও গবেষণার মাধ্যমে সঠিক কর্মকৌশল নির্ধারণ জরুরী। মুরসী হত্যাকাণ্ড উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী রাজনীতিবিদগণকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে যে, এখন বিভাজন, অনৈক্যে ও জনবিচ্ছিন্নতার সময় নয়। অন্যথায় মুরসীর মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতির মতো হুমকির মুখে কোন আদর্শবান আলেম ও ইসলামী রাজনীতিবিদ ও কর্মীগণকে পড়তে হবে না, এটা জোর দিয়ে বলবার উপায় নেই।

খেলাফতে ইসলামী : মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খেলাফতে ইসলামীর আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে বাংলাদেশসহ বিশে^র ইসলামপন্থী জনতা মর্মাহত, গভীরভাবে শোকাহত। তিনি বলেন, মিসরের স্বৈরশাসক জেনারেল সিসি অন্যায়ভাবে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে কারা প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেছে। মুরসিকে কারাগারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়নি। তার মৌলিক অধিকার হরণ করে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছিল। নিজের ওপর জালিমের নির্যাতনের খড়গ চললেও মাথা নত করেননি তিনি। একটি নির্জন অন্ধকার কক্ষে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। হাসানাত আমিনী বলেন, মোহাম্মদ মুরসি মিসরে ইসলামী আন্দোলনের একজন অগ্রনায়ক ছিলেন। ন্যায়-ইনসাফ ও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু যে সংগ্রাম করে গেছেন, তা যুগ যুগ ধরে মুসলমানরা স্মরণ করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে তার রূহের রহমত কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা তার এই মজলুম বান্দাকে জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করুন। আমিন।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন : মুরসির কারাগারে মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী ও সেক্রেটারি জেনারেল ড. মথওলানা মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদ। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডক্টর মোহাম্মদ মুরসিকে নির্জন কারাগারে রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তার মৃত্যু ইয়াজিদি ও ফেরাউনি শাসনের বিরুদ্ধে একজন হোসাইনের এবং মুসা (আ:)-এর অনুসারীর সংগ্রামী শাহাদতবরণ। তারা বলেন, এ মর্মে মুজাহিদের মৃত্যুতে বিশ্বের কোটি কোটি মুক্তিকামী ও ইসলামী জনতার অন্তরে আঘাত হেনেছে। আমরা এই সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট তাগুতি সরকার কর্তৃক এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই মহান ইসলামী নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।

নেজামে ইসলামঃ  মিশরের প্রথম ও একমাত্র নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। মঙ্গলবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেন পার্টির মহাসচিব আবদুল মাজেদ আতহারী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার। বিবৃতিতে বলা হয়, ফেরাউনের বিরুদ্ধে ছিলো মুসা আলাইহিস সালামের লড়াই । জামাল নাসেরের বিরুদ্ধে ছিলো শহীদ হাসান আল বান্না রহ. এর লড়াই । ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমান সময়ে ইয়াহুদী – খ্রিস্টানদের পোষ্যদাস মিসরের সামরিক জান্তার জালিম শাসকের বিরুদ্ধে , লড়াইয়ের সিপাহসালার ছিলেন জনতার রায়ে প্রথম নির্বাচিত ও জননন্দিত প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসী । দুর্ভাগা মিসরের এমনই কলঙ্কের ইতিহাস । ইসলামের বিরুদ্ধে ইবলিসের ছোবল এবং জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই’ই যেনো মিসরের প্রতিচ্ছবি। মিসরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার শপথে বলিয়ান এই জননেতা প্রেসিডেন্সি নির্বাচনে জনতার বিপুল সমর্থন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে সমাসীন হবার পরও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে দেশের গণমানুষকে পবিত্র দ্বীন ও ইসলামের সুমহান আদর্শের কালজয়ী শাসন ব্যবস্থা উপহার দিতে পারেন নি । শুধু তাই নয়, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করে মিথ্যা-বানোয়াট মামলাবাজীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মুরসীকে ফেরাউনীয় প্রেতাত্মার জিন্দানে বন্দী করে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শহীদ প্রেসিডেন্ট মুরসীর শাহাদাতকে কবুল করে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসনে জায়গা দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান এবং মরহুমের শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দানের জন্যও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আরজি পেশ করেন । সেই সঙ্গে শোককে শক্তিতে পরিণত করে জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই ইসলাম বিজয়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড এর সংগ্রামী নেতাকর্মীদেরকে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ে তৈরী থাকার জন্য নেজামে ইসলাম পার্টির নেতৃবৃন্দ আহবান জানান।

জনসেবা আন্দোলন : বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম ও দলের মহাসচিব ইয়ামিন হুসাইন আজমী এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, মুরসি একজন মজলুম শহীদ। তার রক্ত একদিন অবশ্যই কথা বলবে। বিশ্বের দরবারে আমাদের দাবি : বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের হৃদয়ের নেতা আধুনিক তুরস্কের রূপকার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান যেভাবে জেনারেল সিসির সাথে কথা বলা ও কূটনৈতিক সব সম্পর্ক বর্জন করেছে আমরা ওআইসিভুক্ত সব রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানরা যেন মিসর বনাম জেনারেল সিসির সাথে সব সম্পর্ক বর্জন করে।

ছাত্রশিবির : মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. মোহাম্মদ মুরসির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ও তার শাহাদতের কবুলিয়াতের জন্য সবাইকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ শোক বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বের ইসলামপ্রিয় কোটি জনতার প্রিয় নেতা, মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট, ড. মোহাম্মদ মুরসি স্বৈরাচার জালিম শাসক আব্দুল ফাত্তাহ সিসির আদালতে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইসলামবিরোধী বর্বর শাসকের সাজানো মামলায় আটক থাকা অবস্থায় জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি পরিবারের সান্নিধ্য ও উন্নত চিকিৎসা-বঞ্চিত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তার এই বেদনাদায়ক ইন্তেকালে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মী ও বাংলাদেশের জনগণসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব গভীরভাবে শোকাহত। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও শাহাদতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সাথীরা যেন ধৈর্যধারণ করতে পারে সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

ছাত্র মজলিসঃ মিশরের স্বৈরাচারী জালিমশাহী সিসির হাতে বন্দী মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইসলামী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা হাফেজ ড. মোহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইলিয়াস আহমদ ও সেক্রেটারি জেনারেল মনসুরুল আলম মনসুর বলেন, মিসরের অবিসংবাদিত নেতা শহীদ মোহাম্মদ মুরসী আমৃত্যু সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে এক মহান নেতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত আদর্শের উপর অবিচল ছিলেন। স্বৈর শাসকের জুলুম নির্যাতন ভয়ভীতি কোন কিছুই তাকে সত্যের পথ থেকে এক চুল পরিমাণ নড়াতে পারে নি। তিনি মিসরের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কুরআন, সুন্নাহ তথা ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে জাতিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন জালিমশাহী সিসি ও তাদের দোসররা একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু সত্য, ন্যায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল ও আপসহীন শহীদ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসী ও তার সাথীরা জুলুম নির্যাতন সহ্যকরে, শাহাদাত বরণ করে ইতিহাসের মহানায়ক হিসবে বেঁচে থাকবেন অনাগত কাল। তাদের এ আত্মত্যাগ বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তির পথ দেখাবে।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় শহীদ ড. মোহাম্মদ মুরসীর রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন ও মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে আশা করেন প্রেসিডেন্ট মুরসীর আত্মত্যাগের বদৌলতে মিসরের জনগণ শীর্ঘই বর্তমান স্বৈরশাসকের কবল থেকে মুক্ত হবে এবং মুক্তিকামী নির্যাতিত জনতা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

মন্তব্য