Gmail! | Yahoo! | Facbook

বাড়ির পথে নুসরাতের লাশ

FacebookTwitterGoogle+Share

rafi- deadbodyঢাকা, ১১ এপ্রিল ২০১৯ঃ নুসরাত জাহান রাফি। প্রতিবাদী এক নাম। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানী প্রতিবাদ করে তিনি চক্ষুশূল হয়েছিলেন নিপীড়কের। নানা হুমকি-ধামকি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই তিনি তার অবস্থানে অনড় ছিলেন। নরপশুরাও থেমে ছিলো না। তারাও তাদের নৃশংসতার চরম মাত্রা প্রদর্শন করলো। নুসরাতের প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে ধরিয়ে দিলো। ঝলছে গেলো নুসরাতের সারাশরীর।

এরপর তার ঠিকানা হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট। সেখানে টানা ৫ দিন থেকে আজ বাড়ি ফিরছে প্রতিবাদী এ মাদ্রাসাছাত্রী। তবে জীবিত নয়, বাড়ি ফিরছে লাশ। তার পুড়ে যাওয়া শরীরটাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা।

আজ বেলা  সোয়া ১২টার দিকে নুসরাত জাহান রাফির লাশ তার বাবা এ কে এম মুসার কাছে বুঝিয়ে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস। এরপরই মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে  ফেনীর সোনাগাজীর পথে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা।

নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা জানান, সময়মতো পৌঁছতে পারলে আসরের নামাযের পরেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাদীর কবরের পাশে নুসরাতকে সমাহিত করা হবে। সেখানে স্বজনরা তার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শুরু হয়ে ১২টায় শেষ হয়। তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্তে অংশ নেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরুদ্দিন জানান, নুসরাতের ময়নাতদন্ত  শেষ হয়েছে। দগ্ধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন। নুসরাতের ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও প্রভাষক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস।

গত পাঁচদিন এই ইউনিটেই চিকিৎসাধীন ছিল নুসরাত। তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এখানকার চিকিৎসকরা। তবে সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ পৃথিবীর প্রতি ঘৃণা জানিয়ে চিরবিদায় নেয় সে। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরে ৭৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে ছিল নুসরাত। রক্ত ও লাং ইনফেকশনের কারণে কার্ডিও রেসপাইরেটরি ফেইলিয়র হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মানব জমিন

মন্তব্য