Gmail! | Yahoo! | Facbook

ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে

FacebookTwitterGoogle+Share

fastingঢাকা, ১৩ মার্চ ২০১৯ঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু’র পুনর্নির্বাচনের দাবিতে  রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে  আমরণ অনশন করছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চার প্রার্থী এবং দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী।  মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে প্রথমে চার  প্রার্থী অনশন শুরু করলেও পরে তাদের সঙ্গে আরও দুজন শিক্ষার্থী যোগ দেন। আজও (বুধবার, ১৩ মার্চ) আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন তারা।

অনশনকারী চার প্রার্থী হলেন—  ডাকসু নির্বাচনে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদের প্রার্থী শোয়েব মাহমুদ,মুহসিন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদের  প্রার্থী মো. মাঈন উদ্দিন, জগন্নাথ হল সংসদের সদস্য পদের  প্রার্থী  অনিন্দ্য মণ্ডল এবং  কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র পরিবহন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তাওহীদ তানজীম। এছাড়া, দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী হলেন— আল মাহমুদ ত্বাহা ও রাফিয়া তামান্না।

অনশনকারী  মো. মাঈন উদ্দিন বুধবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনশনকারীদের কাছে এসে নির্বাচনের ভুল স্বীকার ও পুনর্নির্বাচনের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চার জন শুরু করলেও  পরে দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।  বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত  অনশন চলবে।’

এখন পর্যন্ত কোনও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনও বাধার সম্মুখীন হইনি।’

নির্বাচনে অংশ না নিলেও কেন অনশন করছেন জানতে চাইলে রাফিয়া তামান্না বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আমি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছি। ১১ মার্চ কী নির্বাচন হয়েছে তা আমি নিজ চোখে দেখেছি। আমি শামসুন্নাহার হলের ভোটার। আমরা সারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছি বলে প্রার্থীরা জিতেছেন। কিন্তু রোকেয়া হল, কুয়েত- মৈত্রী হলে কী ঘটনা ঘটেছে, তা দেশবাসী জানে। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে অন্যকোনও উপায় না দেখে আমি অনশনে যোগ দিয়েছি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর গত সোমবার (১১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন নিয়ে দিনভর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলে। এরপর ওই দিন দুপুরে বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন, প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। পর রাতে ফল ঘোষণা হলে ১৮টি হল সংসদের ১২টিতে ভিপি ও ১৪টিতে জিএস পদে ছাত্রলীগ এবং ছয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভিপি পদে ও চারটিতে জিএস পদে জয়লাভ করেন। সোমবার গভীর রাতে ডাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলে  দেখা যায়, বেশিরভাগ পদে ছাত্রলীগ জয়ী হলেও ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর জয়লাভ করেন।

প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

এদিকে,  মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিপি  পদে পুনঃভোট দাবি করে ভিসির বাসার সামনে অবস্থান নেন। এরপর দুপুর দু’টার দিকে টিএসসিতে নবনির্বাচিত ভিপি নুরসহ তার সহকর্মীদের ধাওয়া করে ছাত্রলীগের কের্মীরা।

অন্যদিকে,ছাত্রদল ও বাম সংগঠন দলগুলো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার  ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশ করে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, কোনও অবস্থাতেই নতুন করে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়। আইন তা সমর্থন করে না।

বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরুর সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন। তার এই উদ্যোগের কারণে ক্যাম্পাসে বিরাজিত উত্তেজনা শান্ত হয়।

মন্তব্য