Gmail! | Yahoo! | Facbook

বরেণ্য কথাসাহিত্যিক শফীউদ্দীন সরদারের ইন্তিকাল

FacebookTwitterGoogle+Share

shafiuddin sardarঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ঃ শেকড় সন্ধানী কথাসাহিত্যিক শফীউদ্দীন সরদার আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নাটোর শহরের শুকুলপট্টি এলাকার নিজ বাস ভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৪ বছর।

গতকাল বাদ মাগরিব শহরের গাড়িখানা মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তিনি চার ছেলে, পাঁচ মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ সারা দেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী পাঠক রেখে গেছেন।

গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ১০ দিন আইসিইউতে থাকার পর গত সোমবার ভোরে তাকে নিজ বাড়ি নাটোর শহরের শুকুলপট্টির ‘সরদার মঞ্জিল’ এ নিয়ে আসা হয়।
গুণী এই লেখক ১৯৩৫ সালের ১ মে নাটোর সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস, শিশু সাহিত্য, নাটক, রম্য রচনা, কল্প কাহিনীসহ শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ১৯৫০ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করার পর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ, বিএ অনার্স এবং এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি লন্ডন থেকে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রি লাভ করেন। নিজ গ্রামের স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি একে একে রাজশাহী সরকারি কলেজ ও রাজশাহীর সারদা ক্যাডেট কলেজে অধ্যাপনা এবং বানেশ্বর কলেজ ও নাটোর রানী ভবাণী সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পেশায় শিক্ষক ও পরে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হলেও এক সময় যাত্রাসহ মঞ্চ নাটকে দাপুটে অভিনেতাও ছিলেন তিনি। জীবনের বেশির ভাগ সময় শিক্ষকতা ও লেখালেখিতে পার করেছেন।
তার রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস চলনবিলের পদাবলি দেশের কোনো প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ না করায় তিনি আজীবন ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস রচনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে তিনি একে একে রচনা করেন রুপনগরের বন্দী, বখতিয়ারের তালোয়ার, গৌড় থেকে সোনারগাঁ, যায় বেলা অবেলায়, বিদ্রোহী জাতক, বার পাইকার দূর্গ, রাজ বিহঙ্গ, শেষ প্রহরী, বারো ভূঁইয়া উপাখ্যান, প্রেম ও পূর্ণিমা, বিপন্ন প্রহর, সূর্যাস্ত, পথহারা পাখি, বৈরী বসতী, অন্তরে প্রান্তরে, দাবানল, ঠিকানা, ঝড়মুখো ঘর, অবৈধ অরণ্য, দখল, রোহিণী নদীর তীরে ও ঈমানদার এর মতো জনপ্রিয় ঐতিহাসিক উপন্যাস। এ ছাড়াও অপূর্ব অপেরা, শীত বসন্তের গীত, পাষাণী, দুপুরের পর, রাজ্য ও রাজকন্যারা, থার্ড পণ্ডিত, মুসাফির ও গুনাগার নামে বেশ কয়েকটি সামাজিক উপন্যাস বড়ই উপভোগ্য। তার রচিত ভ্রমণ কাহিনীর মধ্যে ‘সুদূর মক্কা মদীনার পথে’ উল্লেখযোগ্য। কল্প কাহিনী সুলতানার দেহরক্ষী, রম্য রচনা রাম ছাগলের আব্বাজান, চার চাঁন্দের কেচ্ছা ও অমরত্বের সন্ধানে উল্লেখযোগ্য। শিশু সাহিত্য ভূতের মেয়ে লীলাবতী, পরীরাজ্যের রাজকন্যা ও রাজার মেয়ে কবিরাজ উল্লেখযোগ্য। কবি আল মাহ্মুদের ভাষায় ‘শফীউদ্দিন সরদার বাংলাদেশের সমকালীন সাহিত্যে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। যিনি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বীরত্বগাঁথার মহান উপস্থাপক। তিনি আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কথাশিল্পী। আমি উপন্যাসিক শিল্পীর একজন ভক্ত’। কবি আল মাহ্মুদের পছন্দের এই কথাশিল্পী রাষ্ট্রিয়ভাবে তার কর্মের কোনো স্বীকৃতি না পেয়েই আজ তার শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেছেন। যদিও তিনি স্বীকৃতির জন্য লালায়িতও ছিলেন না। এই মহান মানুষটির মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে নাটোরের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মন্তব্য