Gmail! | Yahoo! | Facbook

মহাপ্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধিনে পুনঃনির্বাচন দাবী খেলাফত মজলিসের

FacebookTwitterGoogle+Share

৩০ ডিসেম্বরের নীলনক্সার নির্বাচন জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে: খেলাফত মজলিস
km logoঢাকা, ২ জানুয়ারী ২০১৯: বিগত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে জাতির কাছে অগ্রহনযোগ্য ঐ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে অবিলম্বে পুননির্বাচনের দাবী জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ দাবী জানান হয়। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে, জনগণের উপর পৈচাশিক নির্যাতন চালিয়ে ভোটাধিকার হরণ করে ফ্যাসীবাদী সরকারকে মসনদে টিকিয়ে রাখার জন্যে নির্বাচনের নামে যে মহাপ্রহসন মঞ্চস্থ করা হলো তা জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে খোদ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আস্থা চিরতরে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে জালিয়াতি আর নীলনক্সার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার কোনভাবেই জনগণের সরকার হতে পারে না।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে মজলিস মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, যুগ্মমহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল হালিম, এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, অধ্যাপক কে এম আলম, মাওলানা তোফাজ্জল হোসনে মিয়াজী, মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এ বৈঠকে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন ও এর পূর্বে প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে সরকার, সরকারী দল, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশসহ প্রশাসনের সম্মিলিত ছক অনুযায়ী যেসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তাতে দেশ এক গভীর সংকটে নিপতিত হবে। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় বিরোধী দল বিশেষকরে ২০ দলীয় জোট, এক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পক্ষে স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণার নূন্যতম সুযোগ দেয়া হয়নি। সরকারী দল ও পুলিশ প্রশাসনের হামলা, মামলা, গ্রেফতার নির্যাতনের শিকার শুধু সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাই হয়নি বরং বহু সংসদ সদস্যকে আহত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বহু প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ভোট শুরুর আগের রাতেই অধিকাংশ আসনে প্রশাসনের সহযোগীতায় সরকারী দল তথা মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়। এরপরে ভোটের দিন সকাল বেলা অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে ২০ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্টর প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। যেসব কেন্দ্রে কিছু কিছু এজেন্ট ঢুকেছিলো সময়ের ব্যবধানে তাদেরকেও জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে মহাজোটের নৌকা, লাঙ্গল মার্কায় সিল মরা হয়। ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচনের এই কুৎসিত চিত্রকে ঢাকার জন্যে বহু কেন্দ্রে ভোটারের নকল লাইন বানিয়ে দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকদের বিভ্রান্ত করা হয়। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে সত্য ঘটনা প্রকাশে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়। ভোট জালিয়াতি ও অপকর্মের খবর প্রকাশ করায় গতকাল খুলনায় একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নৌকায় ভোট না দেয়ার কারণে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একজন নারীকে সন্ত্রাসী হায়েনাদের গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। গুম হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে অবৈধভাবে ব্যবহার করে, জনগণের উপর পৈচাশিক নির্যাতন চালিয়ে ভোটাধিকার হরণ করে ফ্যাসীবাদী সরকারকে মসনদে টিকিয়ে রাখার জন্যে নির্বাচনের নামে যে মহাপ্রহসন মঞ্চস্থ করা হলো তা জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনব অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি জাতির জন্যে একটি অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে থাকবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে খোদ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আস্থা চিরতরে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে জালিয়াতি আর নীলনক্সার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার কোনভাবেই জনগণের সরকার হতে পারে না।
তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে, গণমানুষের অধিকারের স্বার্থে বিগত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মহাপ্রহসনের নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে। নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি আর নীলনক্সার মাধ্যমে যাদের এমপি ঘোষনা করা হয়েছে তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ না করিয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষনা করতে হবে। দলীয় সরকারের পরিবর্তে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এ দাবী আদায়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য